অর্থ পাচার মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। এ সময়ের মধ্যে দুদককে লিভ টু আপিল করতে বলেছেন সর্বোচ্চ আদালত।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।
এ আদেশের ফলে খন্দকার মোশাররফ আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
মোশাররফ হোসেনের জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষও একটি আবেদন করেছিল, যা শুনানির অপেক্ষায় আছে।
এর আগে ১৯ আগস্ট বিচারপতি ভীস্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস কাজল জামিন সংক্রান্ত শুনানি শেষে মোশাররফ হোসেনকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন দেন।
ওই দিন খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী নিতাই রায় চৌধুরী, মিথুন রায় চৌধুরী, মো. নাজমুল হুদা ও খন্দকার মারুফ হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন এ্যাটর্নি জেনারেল এ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন খুরশীদ আলম খান।
মোশাররফ হোসেন এক বছর পাঁচ মাস ধরে কারাগারে আছেন।
২০১৪ সালের ১৩ মার্চ রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুলশানের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে প্রথমে গুলশান থানায় নেওয়া হয়। পরে রাত ১২টা ২৩ মিনিটে তাকে রমনা থানায় নেওয়া হয়। পরের দিন সকাল পৌনে ১০টায় রমনা মডেল থানা থেকে তাকে সেগুনবাগিচা দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিয়ে আসার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
যুক্তরাজ্যে মোট ৯ কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা পাচারের অভিযোগে মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘিত হওয়ায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০০২ এর ১৩ ধারা এবং ২০০৯ ও ২০১২-এর (৪) ধারায় দুদকের পরিচালক নাসিম আনোয়ার বাদী হয়ে গত বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর রমনা মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় বলা হয়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল অর্থ-সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। মন্ত্রী থাকাকালীন ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের ওই ব্যাংকে তার নিজের ও স্ত্রী বিলকিস আক্তারের যৌথ নামে আট লাখ চার হাজার ১৪২ ব্রিটিশ পাউন্ড পাচার করেন, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ৯ কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এ টাকা তিনি বিভিন্ন সময় ১০৮৪৯২ নম্বর হিসাবে ফিক্সড টার্ম ডিপোজিটে জমা করেন।


