গণঅভ্যুত্থানের অর্থই জানে না বিএনপি। তাই খালেদা জিয়া মানুষ মারার আন্দোলনের পর ঘরে ফিরে গেছেন। এখন তার নেতারা বলছেন যে, গণঅভ্যূত্থান করে এ সরকারের পতন ঘটাবেন। মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) কার্যালয়ে বিআইডব্লিউটিসি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর ৪০তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল পূর্ব এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পূর্বে ঘাতকরা যখন জিয়াউর রহমানের কাছে গিয়ে বলেছেন ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হবে’। তখন জিয়াউর রহমান তাদের বলেছিলেন ‘গো এহেড’। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার পর রেডিও-টেলিভিশন ও পত্র-পত্রিকায় ঘাতকরা এ কথা বলায় প্রমান হয় বঙ্গবন্ধুর হত্যার সাথে জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলেন।
শাজাহান খান বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ছিলেন বাঙ্গালি ও সারা বিশ্বের নেতা। বঙ্গবন্ধু একটি জাতি উপহার দিয়েছিলেন। ঘাতকরা একজন মানুষকে হত্যা করেনি ওরা একটি আদর্শকে হত্যা করা চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা বিরোধীদের পুনর্বাসিত, বাংলাদেশ বেতারকে রেডিও বাংলাদেশ এবং জয়বাংলা বলার স্থানে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ করেছে। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতাবিরোধী শাহ আজিজকে মন্ত্রী, তার নামে হল ও সবুর খানের নামে রাস্তা করেছিল।
শাজাহান খান বলেন, বিএনপি যারা করে তারা সব সময় মিথ্যার বেশাতি করেন। তারা মিথ্যা কথা বলার ট্রেনিং নিয়েছেন।
তিনি বলেন, বিএনপি যখন আন্দোলনের কথা বলে, তখন আমরা শঙ্কিত হই। বিএনপি কোন আন্দোলন করবে। যে আন্দোলনে পেট্রল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করা হয়, আগুন লাগিয়ে গাড়ী পোড়ান হয়। এটা গণ তান্ত্রিক আন্দোলন কিনা, আমরা তা জানিনা।
মন্ত্রী বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে বলেন, পেট্রল বোমা মেরে গণতন্ত্র হয় না। এটাতো পরিক্ষীত। আপনাদের তো জনগণের ওপর বিশ্বাস নেই।
ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি মো. মহসিন ভূইয়ার সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক ছাত্রনেতা ও সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু। বক্তব্য রাখেন বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, জাতীয় শ্রমিক লীগের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাহাবুদ্দিন, বিদ্যুত শ্রমিক লীগের সিবিএ সভাপতি মো: আলাউদ্দিন মিয়া, সোনালী ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি কামালউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যসহ ১৯৭৫ সালে ১৫ আগষ্ট নিহত শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।


