ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার আগে নিজেকে কী ভাবে মানসিক ভাবে প্রস্তুত করবেন তা নিয়ে কিছু বলার আগে আমার একটা পূর্ব অভিজ্ঞতার কথা বলি। বেশ কয়েক বছর আগের ঘটনা। আমি ছিলাম ইন্টারভিউ প্যানেলে। একটি অফিসের ফ্রন্ট অফিস এক্সিকিউটিভের পদের জন্য তরুণ-তরুণীদের ইন্টারভিউয়ের দায়িত্ব ছিল আমাদের ওপর। দু’জন ইন্টারভিউদাতাকে তৎক্ষণাৎ খারিজ করা হল। প্রথম জন ছিল সুপুরুষ, কিন্তু মাথায় পনিটেল বাঁধা। দু’ কানে দুল। পরনে ঢিলেঢালা ট্রাউজার, পায়ে খোলা স্যান্ডাল। ভাবভঙ্গিমায় লেগেছিল একটা বেপরোয়া ভাব। তাঁর সঙ্গে আমরা কথা বলে সময় নষ্ট করিনি।
অন্য জন এক মেয়ে। বয়সে যুবতী। কিন্তু সে যখন ঘরে ঢুকল আমরা অবাক। দেখে মনে হচ্ছে যেন সিনেমার জন্য ইন্টারভিউ দিতে এসেছে। মুখ ভর্তি মেক আপ, পরনে একটা খোলামেলা সালোয়ার কামিজ। পায়ে হাই হিল জুতো। মেয়েটি বলেছিল সে এমন ভাবে পোশাক পরে এসেছে যাতে ফ্রন্ট অফিস এক্সিকিউটিভের ভূমিকায় তাকে মানানসই দেখায়। আমরা তার সঙ্গে আর কথা বাড়ালাম না। কারণ তাঁকে ওই পদের জন্য একেবারেই বেমানান দেখাচ্ছিল।
এই গল্প দুটো এই কারণেই বললাম যাতে ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার আগে কী ভাবে সাজপোশাক পরবেন তা নিয়ে আপনি বারবার ভাবেন। কী ধরনের প্রতিষ্ঠানে ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছেন সে বিষয়ে খেয়াল রাখুন। কোনও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে বা ব্যাঙ্কে যে ধরনের সাজপোশাক করে ইন্টারভিউ দিতে যাবেন, প্রিন্ট মিডিয়ায়, বা বিজ্ঞাপন সংস্থায় সেই ধরনের পোশাক পরে যাবার দরকার নেই। তবে যেখানেই ইন্টারভিউ দিতে যান বেসিক গ্রুমিংয়ের প্রয়োজন আছে।
বেসিক গ্রুমিং বলতে আমি বলতে চাইছি যেখানেই ইন্টারভিউ দিতে যান চুল আঁচড়ানো থাকবে ছিমছাম ভাবে। পরনে থাকবে ইস্ত্রি করা পোশাক। পায়ের জুতোয় থাকবে পালিশ। নখ কাটা থাকবে পরিষ্কার ভাবে। মেয়েরা পরবেন তাঁতের শাড়ি অথবা তসরের শাড়ি। সুন্দর কাটিংয়ের সালোয়ার কামিজও পরতে পারেন। অথবা পরতে পারেন বিজনেস শার্টের সঙ্গে ম্যাচ করে স্মার্ট ট্রাউজার। কানে ছোট দুল পরবেন। বড় ঝোলা দুল নৈব নৈব চ। পায়ে আরামদায়ক হিল জুতো। হিলে যেন কোনও রকম বাড়াবাড়ি না থাকে। ছোট পার্সের সঙ্গে পোর্ট ফোলিও ফোল্ডার নিতে পারেন সিভি নেওয়ার জন্য। কলম অবশ্যই সঙ্গে নেবেন। ছেলেরা জিনসের প্যান্ট পরবেন না। ব্যাগের বদলে ব্যাকপ্যাক নেবেন না। ব্যাকপ্যাক নিলে চেহারাটা ভারি অপরিচ্ছন্ন দেখায়। কখনও বা মনে হয় আপনি কলেজ থেকে আসছেন বা বেড়াতে বেড়িয়েছেন। এই ধরনের ব্যাগের বদলে ইন্টারভিউ দিতে যাবার সময় সঙ্গে নিন পোর্টম্যান্টো বা ব্রিফকেস। বাবা বা কাকার কাছ থেকেও এই ধরনের ব্যাগ ধার করতে পারেন। এ সব যদি না নিতে চান তা হলে সঙ্গে নিন প্রযোজনীয় কাগজপত্র বহন করার মতো ফোল্ডার বা আইপ্যাড।
ইন্টারভিউতে শরীরী ভাষা:
সারা শরীরের ভাষা দিয়েই আপনি আপনার ইতিবাচক দিকগুলো জাগিয়ে তুলুন।
নীরব ভাষায়:
১) মুখভঙ্গির অভিব্যক্তি: ইন্টারভিউয়ের ঘরে ঢোকার সময় আপনার মুখে লেগে থাকবে স্মিত হাসি।
২) ভেতরের নার্ভাসনেস যেন বাইরে কিছুতেই প্রকাশ না পায়।
৩) হ্যান্ডশেক করার সময় দৃঢ় ভাবে হাত মেলান। মেয়েরা হ্যান্ডশেক করতে না চাইলে নমস্কার করুন।
৪) ইন্টারভিউ বোর্ডের সদস্যদের অনুমতি নিয়ে নিন বসার আগে।
৫) ইন্টারভিউ কর্তাদের চোখে চোখ রেখে কথা বলুন। খবরদার টেবিলের দিকে মুখ ঝুঁকিয়ে রাখবেন না বা নিজের হাতের দিকে মাথা নিচু করে তাকাবেন না।
৬) কথা বলার সময় নিজের হাত বা আঙুল মুখের কাছাকাছি আনবেন না।
৭) আঙুল নিয়ে খেলা করবেন না।
৮) চলাফেরার মধ্যে যেন আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট থাকে।
যখন কথা বলবেন:
১) ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় নিজের নাম স্পষ্ট ভাষায় পরিষ্কার ভাবে উচ্চারণ করুন।
২) প্রত্যেক প্রশ্ন মন দিয়ে শুনুন। এবং প্রতিটা প্রশ্ন শেষ হওয়ার পর উত্তর দিন।
৩) চোখে হাসবেন এবং মস্তিষ্ক দিয়ে উত্তর দেবেন। উত্তর দেওয়ার সময় ভাবাবেগের প্রকাশ যত কম ঘটে ততই ভাল


