বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকে বাংলাদেশি ডিজাইনার

Bangladeshi_Australia-NYবাংলাদেশি দুই নারীর অস্ট্রেলিয়ায় গড়ে তোলা ফ্যাশন হাউস সদর্পে নিজের স্থান করে নিয়েছে আমেরিকাতেও। এই সপ্তাহে শুরু হওয়া নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকে তাদের ডিজাইন করা ড্রেস নিয়ে চলছে প্রদর্শনী।

বিশ্ব ফ্যাশনে পিছিয়ে আছে তৃতীয় বিশ্বের সকল দেশ। ডিজাইনার, মডেল কিংবা রানওয়ে- কোথাও নেই উন্নয়নশীল কোন দেশের নাম। সেখানে নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকের মত আন্তর্জাতিক খ্যতিসম্পন্ন আয়োজনে থাকবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি- সত্যিই চমকে ওঠার মত খবর।

‘ন্যাডজ অ্যান্ড স্যাবস’ নামের নারীদের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের শিকড় বাংলাদেশে। এই ব্যান্ডের পােশাক পরেই নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকের রানওয়েতে হাঁটবে মডেল। বাংলাদেশের ফ্যাশন জগতের জন্য এ এক বৈপ্লবিক সূচনা।

২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী দুই বন্ধু মিলে গড়ে তোলেন এই প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাডজ অ্যান্ড স্যাবস’। ডিজাইনার নাদিয়া খান ও বিজনেস ডিরেক্টর সাবরিনা রশীদের গড়ে তোলা এই প্রতিষ্ঠান বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার ফ্যাশন জগতে অনন্য নাম। সীমান্ত পেরিয়ে বিভিন্ন দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে এই ব্র্যান্ডের সুনাম- সুঁই সুতা, পুঁতি, রঙের কারুকাজ, হ্যান্ড পেইন্ট, টাইডাই, অ্যাপ্লিকের কাজ করা এই পোশাক বিশেষ দিবসের আয়োজন পূর্ণ করতে পূরণ করছে ক্রেতার চাহিদা।

ডিজাইনার নাদিয়া খান জানান, তিনি সিল্ক এবং সিল্ক ঘরানার কাপড় নিয়েই কাজ করতে বেশি পছন্দ করেন। নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইকেও থাকছে সিল্কের প্রাধান্য। ‘সিল্ক হচ্ছে প্রাচীন কাপড়ের মধ্যে অন্যতম। অর্গানিক উপায়ে তৈরি তাই যে কোন ধরনের কৃত্রিমতা বর্জিত। খুব সহজেই সামলানো যায়, তাই সিল্ক ব্যবহারেও স্বস্তি।’- বলেন তিনি। আরও যোগ করেন, ‘গরমে শীতল অনুভূতি আর শীতের উত্তাপের কারণেই ফ্যাশন উইকে বেছে নিয়েছি খাঁটি সিল্ক, সিল্ক অরেনজা ও সিল্ক জর্জেট।’

দেশের প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশি কাপড় তার খুব পছন্দ। বিশ্ব বাজারে এই কাপড়ের অমিত সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া হ্যান্ড পেইন্ট, এম্ব্রয়ডারি, হাতের কাজের পোশাক বিদেশি মুদ্রা অর্জনে সক্ষম। বিজনেস ডিরেক্টর সাবরিনা রশীদ জানান, ফ্যাশন উইকের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ফ্যাশনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা সত্যিই অনেক বড় ব্যাপার। ‘আমরা খুবই উত্তেজিত। এতোদিন শুধু স্বপ্ন দেখেছি যে এই প্ল্যাটফরমে অংশ নেবো, অবশেষে সত্যি হচ্ছে সে স্বপ্ন।’

দেশের টেক্সটাইলের ইতিহাসে গর্বিত দুই বাংলাদেশি নারী। তারা জানান, সুযোগ পেলে দেশের জন্য অবশ্যই কিছু করতে চান। বর্তমানে কুইনসল্যান্ড ও নিউ সাউথওয়েলসে রয়েছে ‘ন্যাডজ অ্যান্ড স্যাবস’ ব্র্যান্ডের দুটি শোরুম। ইয়োরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের পোশাক রফতানি করছেন তারা। আন্তর্জাতিক ফ্যাশনে নিজেদের নাম প্রতিষ্ঠায় বদ্ধ পরিকর এই দুই তরুণী।

আরও পড়ুন