বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ভারতে হিন্দুদের চেয়ে মুসলিম নারীর অনুপাত বেশি

toi-picপুরুষদের অনুপাতে মহিলাদের সংখ্যাবৃদ্ধির খতিয়ানে হিন্দুদের পিছনে ফেলল মুসলিমরা। বুধবার প্রকাশিত ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক দশকে মুসলিম সমাজে মহিলাদের সংখ্যাবৃদ্ধির হার হিন্দু সমাজের তুলনায় বেশি। ২০০১ সালের জনগণনা অনুসারে ১০০০ পুরুষ-পিছু মুসলিম মহিলার সংখ্যা ছিল ৯৩৬। ২০১১ সালে এসে তা বেড়ে হয়েছে ৯৫১। অর্থাৎ বৃদ্ধির হার ১.৫ শতাংশ। পক্ষান্তরে ২০০১ সালে হিন্দুদের ক্ষেত্রে এই অনুপাত ছিল ১০০০ পুরুষ পিছু ৯৩১ জন মহিলা। দশ বছর পরে তা হয়েছে ৯৩৯। বৃদ্ধির হার ০.৮ শতাংশ। সামগ্রিক ভাবে গোটা দেশে যখন পুরুষদের অনুপাতে মহিলার সংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ শতাংশ, তখন এই নিরিখে খানিকটা পিছিয়েই রয়েছে হিন্দু সমাজ।

পুরুষ-মহিলা আনুপাতিক বিচারে অবশ্য সব চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন খ্রিস্টানরা। গোটা দেশের মধ্যে একমাত্র তাঁদের সমাজেই মহিলাদের সংখ্যা পুরুষদের থেকে বেশি। গত জনগণনার সময় ১০০০ পুরুষ-পিছু খ্রিস্টান মহিলার সংখ্যা ছিল ১০০৯। এ বার তা বেড়ে হয়েছে১০২৩। বৃদ্ধির হার ১.৪ শতাংশ।

ধর্মভিত্তিক জনগণনার রিপোর্ট থেকে আর একটি তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। সেটি হল, গত ১০ বছরে গুজরাতে মুসলিমদের সংখ্যা কমেছে ৩৪.৫%। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, মণিপুর, অসম, ত্রিপুরা, মিজোরাম এবং ঝাড়খণ্ড— এই সাত রাজ্যে শিখদের সংখ্যা নিম্নগামী। আবার জম্মু-কাশ্মীর, পঞ্জাব, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ এবং কর্নাটকে কমেছে বৌদ্ধদের সংখ্যা।

ধর্মভিত্তিক জনগণনা রিপোর্ট আরও বলছে, শহরে বসবাসকারীদের ৭৫%-ই হিন্দু। আর গ্রামে বসবাসকারী হিন্দুর সংখ্যা ৮৩%। সেখানে শহরবাসীদের ১৩% মুসলিম আর গ্রামের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা ১৮%।

কারণ:
শিক্ষা এবং আয়বৃদ্ধি  কমিয়েছে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার। যে ধর্ম বা সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে শিক্ষার হার যত বেশি সেখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার তত কম। ধর্মভিত্তিক জনগণনা রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর এই বিষয়টি সামনে এসেছে। ২০১১ সালের জনগণনায় দেখা যাচ্ছে জৈন ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা প্রায় একই আছে (.৪ শতাংশ)। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা কমেছে(.৮ থেকে .৭ শতাংশ)। এই দুই ধর্মের মানুষদের মধ্যে শিক্ষার হার বেশি। তাছাড়া দলিতরা আর ধর্মান্তরিত হয়ে বৌদ্ধধর্মে নাম লেখাচ্ছেন না। বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকর দলিতদের বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত করার যে পরিকল্পনা নিয়েছিলেন তা মুখ থুবড়ে পড়েছে। দলিতদের জন্য সরকারের নানা প্রকল্পের সুবিধা পেতে তাঁরা দলিতই থেকে যাচ্ছেন। আর বাকিরা ব্যবসায়িকভাবে সফল। স্বচ্ছল এই দুই সংখ্যালঘু ধর্মের মানুষের সংখ্যা বাড়েনি। সবথেকে বেশি কমেছে শিখ ধর্মের মানুষের সংখ্যা (.২ শতাংশ)। খ্রিস্টানদের সংখ্যা প্রায় একই রয়েছে। তবে শিক্ষাদীক্ষায় এগিয়ে থাকা স্বচ্ছল খ্রিস্টানদের সংখ্যা কমলেও। ধর্মান্তরিতদের জন্য খ্রিস্টানদের সংখ্যার হেরফের হয়নি।

আরও পড়ুন