বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

কে কার বাবা ? কে কার প্রেয়সী ?

201508290953182194_Sheena-murder-mystery-gets-more-murkier_SECVPFকে কার বাবা ? কে কার প্রেয়সী ? কার প্রথমপক্ষের স্বামী কার দ্বিতীয়পক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন ? বোরা ও মুখোপাধ্যায় পরিবারে যে বহু বছর ধরে সাপ লুডোর খেলা চলেছিল তা পরিষ্কার। সেই ক্রমতালিকা সাজাতেই এখন ব্যস্ত ভারতের মুম্বাই পুলিশ। একদিকে শিনা বোরা মৃত্যুরহস্যে জট এখনও কাটেনি। অন্যদিকে বোরা ও মুখোপাধ্যায় বাড়ির বংশতালিকা সাজাতে হিমশিম খাচ্ছে মুম্বই পুলিশ। প্রতিদিনই নতুন নতুন কেচ্ছার কথা সামনে আসছে। আর ততই তাজ্জব হয়ে যাচ্ছে  মানুষ।

এবার সম্ভবত হাইসোসাইটির এই কেচ্ছাকাহিনির সবথেকে নিকৃষ্টতম অভিযোগটি প্রকাশ্যে এল। সৌজন্য ক্যাচ নিউজ় নামে একটি সংবাদমাধ্যম। মুম্বাই পুলিশের বিশ্বস্ত সূত্রকে উদ্ধৃত করে তারা এমন এক দাবি করেছে যা গোটা ঘটনাটিকেই নয়া মাত্রা দিচ্ছে।

কী সেই দাবি ?

ক্যাচ নিউজ়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিনা বোরাকে নিজের বোন বলে চালাতে চাওয়া খুব একটা ভুল নয় ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়ের। কারণ, শিনা একদিকে যেমন তাঁর মেয়ে তেমন তাঁর বোনও বটে! মুম্বই পুলিশের এক আধিকারিককে উদ্ধৃত করে এ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্দ্রাণীর সঙ্গে জোর করে যৌন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন তাঁর সৎবাবা উপেন্দ্র কুমার বোরা। ওই অবৈধ যৌনাচারের ফলই নাকি শিনা বোরা ! জেরার সময় এমনই নাকি জানিয়েছেন ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গেছে।

এদিকে প্রায় একই কথা শোনা গেছে ইন্দ্রাণীর প্রাক্তন সহকর্মী তথা প্রখ্যাত সাংবাদিক বীর সংভির গলায়। গতকাল একটি সর্বভারতীয় বৈদ্যুতিন মাধ্যমে তিনি দাবি করেন, ছোটোবেলায় সৎবাবা তাঁকে একাধিকবার যৌনহেনস্থা করেছিলেন বলে দাবি করতেন ইন্দ্রাণী। এই তথ্য গোটা ঘটনাটিকেই নতুন মাত্রা দিয়েছে। খানিক সমাধানের পথে থাকা অঙ্ক ফের নতুন করে কষতে হচ্ছে মুম্বই পুলিশকে।

গুয়াহাটি থেকে মেলা খবর অনুযায়ী, ইন্দ্রাণীর ছেলেবেলাতেই তাঁর বাবা ছেড়ে চলে যান। এরপর ইন্দ্রাণীর মা দুর্গা রানি বোরা বিয়ে করেন সম্পর্কে তাঁর দেওর উপেন্দ্র কুমার বোরাকে। ইন্দ্রাণীর স্কুল সূত্রে জানা গেছে, আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ের মতো ছিলেন না তিনি। তার কারণ কী সৎবাবার যৌন লালসার শিকার হওয়া ? প্রশ্ন উঠছে।

আরও প্রশ্ন উঠছে শিনা বোরার বার্থ সার্টিফিকেটকে ঘিরে। সেখানে বাবা ও মা হিসেবে নাম রয়েছে উপেন্দ্র কুমার ও দুর্গা রানি বোরার। ১৯৮৯ সালে শিনার জন্ম হলেও সেই সার্টিফিকেট তৈরি হয় ২০০৪ সালে। কেন ? জবাব নেই কোনও । তবে এটুকু পরিষ্কার, এই রহস্য এখনই সমাধান হওয়ার নয়। আরও অনেক কিছু সামনে আসার বাকি। তার জন্য পুলিশের ভরসা শিনা বোরার ভাই মিখাইল বোরা। আজ ফের তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। অন্যদিকে, রায়গড় থেকে উদ্ধার শিনার হাড় পরীক্ষার জন্য পাঠাবে পুলিশ।

নয়া দিল্লি প্রতিনিধি

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম

আরও পড়ুন