যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চের সক্রিয় কর্মী ও ব্লগার শাম্মী হক নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। শুক্রবার ২৭ আগস্ট তিনি মোহাম্মদপুর থানায় এ জিডি করেন। বিভিন্ন সময়ে ফেসবুক ও ফোনে প্রাণনাশের হুমকি এবং গত বৃহস্পতিবার শপিংয়ে যাওয়ার সময় অজ্ঞাত পরিচয়ে দুই যুবক তাকে অনুসরণ করে বলে জিডিতে উল্লেখ করেছেন। তাদের ছবি তুলেও পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে। মুক্তচিন্তার ব্লগারদের হত্যা ও হত্যার হুমকির মধ্যেই গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী শাম্মী এ জিডি করলেন।
শাম্মী হক রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছেন। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে তার দেওয়া স্ল্নোগানের কারণে তিনি গণজাগরণ মঞ্চের সবার পরিচিত। এ ছাড়া বিভিন্ন নারী আন্দোলনেও তিনি রাজপথে সোচ্চার।
শাম্মী হক জিডিতে উল্লেখ করেছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে ধানমণ্ডি ২৭ নম্বরে শপিং করতে যাচ্ছিলেন। ওই সময় দুই যুবক তাকে অনুসরণ করে। তিনি বিষয়টি বুঝতে পেরে রাস্তায় নিরাপত্তা খুঁজতে দাঁড়ালে ওই যুবকরাও তাকে অনুসরণ করে দাঁড়িয়ে যায়। একপর্যায়ে বিষয়টি ফোনে কয়েক বন্ধুকে জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে অনুসরণকারী দুই যুবকের ছবি তোলেন। ওই সময় যুবকরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
শাম্মী ফোনে সমকালকে বলেন, ব্লগার নীলাদ্রি চ্যাটার্জি খুন হওয়ার পর তিনি বাসা থেকে বের হননি। বৃহস্পতিবার শপিং করতে বের হওয়ার পরপরই দুই যুবক তার পিছু নেয়। এর আগেও ব্লগে লেখালেখি, বিভিন্ন নারী আন্দোলন ও গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন চলাকালে তাকে ফোনে ও ফেসবুকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার তাকে অনুসরণ করা যুবকরা হুমকিদাতা উগ্রবাদী গ্রুপের বলে তিনি সন্দেহ করছেন।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর জানান, জিডির সূত্র ধরে ঘটনাটি তদন্ত চলছে। অনুসরণকারীদের ছবি বিশ্লেষণ করে তাদের পরিচয় ও আইনের আওতায় নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ওসি বলেন, শাম্মীকে সব ধরনের পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে। তিনি চাইলেই তাকে পুলিশের নিরাপত্তা দেওয়া হবে।
২০১৩ সালে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ গড়ে ওঠার পর থেকে এ পর্যন্ত উগ্র জঙ্গিরা ঢাকা ও সিলেটে পাঁচ ব্লগারকে হত্যা করে। যারা সবাই মঞ্চের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। এর আগে ব্লগার নীলাদ্রি চ্যাটার্জি নিলয় থানায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করতে গেলেও পুলিশ তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
গত ৭ আগস্ট দুর্বৃত্তরা তাকে পূর্ব গোড়ানের বাসায় ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করে। পুলিশ বলছে, নিলয়কে নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যরা হত্যা করেছে। নিলয় হত্যার এক মাসের মধ্যেই গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও ব্লগার শাম্মী হক হুমকির কথা জানিয়ে নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


