প্রথম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর (বুড়িগঙ্গা সেতু-১) টোল মওকুফ করার সুপারিশ করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, রাজধানীর যানজট নিরসন ও জনসাধারণের সহজ যাতায়াতের সুবিধার্থে ঢাকা মহানগরীর কেন্দ্রস্থল থেকে আশে-পাশের সেতুগুলো থেকে কোন প্রকার টোল আদায় করা হয় না। একই কারণে বুড়িগঙ্গা সেতু- ১ থেকেও কোন টোল আদায় করা যুক্তিযুক্ত নয় বলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ মনে করে।
এছাড়া ‘টোল নীতিমালা ২০১৪’ অনুযায়ী বুড়িগঙ্গা সেতু- ১-এর টোল হার বৃদ্ধি কার্যকর করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে বুড়িগঙ্গা সেতু- ১-এর দৈর্ঘ ৮৪৭ মিটার। ১০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৯৮৯ সালে এটি নির্মিত হওয়ার পর ওই বছরের ১৩ মার্চ থেকে এ সেতু থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে ২ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত বুড়িগঙ্গা সেতু-২; ১০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত বসিলা বুড়িগঙ্গা সেতু-৩; ১০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত কাঁচপুর সেতু; ৮ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত সুলতানা কামাল সেতু থেকে কোন টোল আদায় করা হয় না।
বুড়িগঙ্গা সেতু- ১ থেকে টোল আদায় মওকুফ করার বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এ সেতুর টোল মওকুফের বিষয়ে গত ১০ আগস্ট সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এক অনানুষ্ঠনিক বৈঠক হয়েছে। নৌ-পরিবহন মন্ত্রী মোঃ শাজাহান খান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মোঃ মশিউর রহমান রাঙ্গা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, সংসদ সদস্য ডভোকেট সানজিদা খাতুন ও সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাসহ পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সকলেই এ সেতু থেকে টোল আদায় মওকুফ করার সুপারিশ করেন।


