শনিবার ১০ নভেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

হতভাগ্য বাংলাদেশিদের লাশ পাওয়া নিয়েই সংশয়


NEWSWORLDBD.COM - August 31, 2015

Boat_Sinkভূমধ্যসাগরে লিবিয়া উপকূলের কাছে নৌকাডুবির ঘটনায় যে ২৪ জন বাংলাদেশী মারা গেছেন, তাদের মৃতদেহগুলো আদৌ পাওয়া যাবে কিনা এ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা বলছেন, লিবিয়ার প্রথা অনুযায়ী মরদেহ দেখানোর নিয়ম না থাকায় উদ্ধার করা মরহেদগুলো থেকে বাংলাদেশীদের শনাক্ত করাও সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে জীবিতদের মধ্যে যারা দেশে ফিরতে চান, আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় তাদের ফিরিয়ে আনা হবে। এ ব্যাপারে প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে। অপরদিকে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিহত বাংলাদেশীদের মৃতদেহ আনা অনিশ্চিত হওয়ায় বাংলাদেশে নিহতদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরা উৎকণ্ঠার মধ্যে আহাজারি করছেন। স্বজন হারানোর বেদনায় তারা কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। মৃতদেহ পর্যন্ত দেখতে পাবে না এমন খবরে তাদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হচ্ছে। ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে ও পরিবারে হাসি ফোটাতে যাওয়া এসব বাংলাদেশীর পরিবারে এখন শুধুই কান্না।

লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, যেসব বাংলাদেশীর বৈধতা আছে, তারা লিবিয়াতেই অবস্থান করতে পারবেন। তবে যাদের বৈধতা নেই, তাদের ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি জানান, জীবিত উদ্ধার বাংলাদেশীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা ভালো নেই। তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ দূতাবাস এ ব্যাপারে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।

২৭ আগস্ট ভূমধ্যসাগরের লিবিয়া উপকূলের কাছে চার শতাধিক অভিবাসন প্রত্যাশী নিয়ে পৃথক দুটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। ইউরোপ পাড়ি জমানোর উদ্দেশ্যে অভিবাসন প্রত্যাশীরা বাংলাদেশ, পাকিস্তান, সিরিয়া, মরক্কো ও আফ্রিকার সাহারা মরুভূমি এলাকা থেকে এসেছিলেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। অভিবাসন প্রত্যাশীদের মধ্যে ৭৮ জন বাংলাদেশী ছিলেন বলে জানিয়েছে লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের অপর একটি সূত্র। এদের মধ্যে ৫৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ২৪ জন। এরা সবাই মারা গেছেন বলে আশংকা করা হচ্ছে।

উদ্ধার করা মরদেহগুলোর মধ্যে কোনো বাংলাদেশী আছেন কিনা জানতে চাইলে শ্রম কাউন্সিলর আশরাফুল ইসলাম জানান, দূতাবাস কর্তৃপক্ষকে এখন মরদেহগুলো দেখানো হয়নি। লিবিয়ায় প্রথা অনুযায়ী মরদেহ দেখানোর নিয়ম নেই। তবে নিখোঁজদের পরিচয় জানা গেছে। এদের মধ্যে শুক্রবার ছয়জনের পরিচয় জানায় দূতাবাস কর্তৃপক্ষ। এরা হলেন- রমজান আলী (৫৮), সানোয়ারা খাতুন (৪২), ইউসুফ (৭), রিমা আবদুল আজিম (২), রাইসা আবদুল আজিম (৮ মাস), আবুল বাশার (৪৭)। পরে আরও ১৮ বাংলাদেশীর পরিচয় জানায় দূতাবাস কর্তৃপক্ষ। এরা হলেন- শরীয়তপুরের আজাদ, সুপন ও স্বপন, কেরানীগঞ্জের গাজীউল, যশোরের মনিরামপুরের জিয়াউর রহমান, নোয়াখালীর রুবেল, শাহাবুদ্দীন, সোহেল ও সালাউদ্দিন, কুমিল্লার ইসলাম ও ফারুক, চট্টগ্রামের করিম, সাতক্ষীরার জাকির, নারায়ণগঞ্জের মাহমুদ, মাদারীপুরের ফয়েজ, টাঙ্গাইলের বাদল ও বাবুল, রাজবাড়ীর মফিজ।

বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক তিউনিসিয়া থেকে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, সাগর থেকে উদ্ধার করা দেড় শতাধিক মৃতদেহ এখন লিবিয়ার কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রয়েছে, যা কাউকে দেখতে দেয়া হচ্ছে না। ফলে এর মধ্যে কতজন বাংলাদেশীর মৃতদেহ আছে তা আদৌ জানা যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, বাংলাদেশীদের মধ্যে চারটি পরিবারের ২২ জন ছিলেন যার মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ১৮ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি আশংকা করেছেন, তাদের সবাই মারা গেছেন। এ ঘটনায় বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তারা এসব তথ্যের ব্যাপারে মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছেন বলে তিনি জানান। মোজাম্মেল হক জানান, বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশীদের মধ্যে ৪২ জনকে এখন লিবিয়ার কর্তৃপক্ষের হেফাজতে বা ডিটেনশনে রাখা হয়েছে। এদের সঙ্গে কথা হলে অন্তত ২০ জন বলেছেন, তারা বাংলাদেশে ফিরতে চান।

ওই চারটি পরিবারের সবাই দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়ায় বসবাস করছিল। তাদের ছেলেমেয়েরা লিবিয়ায় জন্ম নিয়েছে ও সেখানেই বেড়ে উঠেছে। লিবিয়ায় নিরাপত্তার অভাবের কারণেই তারা নৌকায় করে ইতালিতে পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করছিলেন।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: Anwarul Karim Raju

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.