বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

জয়নাল হাজারির খালাসের রায় বাতিল

hazariদুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় ফেনীর সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল হাজারীকে হাই কোর্টের দেয়া খালাসের রায় বাতিল করেছেন সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে পুনরায় হাইকোর্টে শুনানির জন্য নির্দেশ দেন আদালত। সোমবার জয়নাল হাজারীকে খালাস দিয়ে হাই কোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে দুদকের করা লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেয়।

আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। জয়নাল হাজারীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার। খুরশীদ আলম বলেন, আপিল বিভাগ হাজারীর খালাসের রায় বাতিল করেছে। এখন হাই কোর্টে তার করা আপিলের পুনঃশুনানি হবে।

২০০৭ সালের ২ অক্টোবর জ্ঞাত আয় বর্হ্ভিূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ফেনী থানায় আওয়ামী লীগ নেতা হাজারীর বিরুদ্ধে এই মামলা করেন দুদকের উপ পরিচালক সফিকুর রহমান ভূইয়া। এতে হাজারীর কাছে ঘোষিত আয়ের বাইরে ১ কোটি ১৩ লাখ ৩৯ টাকার সম্পদ থাকার কথা বলা হয় এবং তিনি নিজের এক কোটি টাকা বোনের নামে এককালীন আমানত হিসেবে সংরক্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়।

২০০৮ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত এ মামলার রায়ে হাজারীকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা; অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আপিল করেন হাজারী। ২০১১ সালের ৫ ডিসেম্বর হাই কোর্ট তার আপিল মঞ্জুর করে সাজার রায় বাতিল করে।

দুদক এর বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ১৪ এপ্রিল লিভ টু আপিল করে, যার শুনানি শেষে সোমবার সর্বোচ্চ আদালত আদেশ দিল। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে সাংসদ থাকাকালে জয়নাল হাজারীর বিরুদ্ধে ব্যপক দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ ওঠে। ২০০১ সালে ১৬ অগাস্ট রাতে যৌথবাহিনীর (বিডিআর-পুলিশ) তল্লাশির সময় পালিয়ে ভারতে চলে যান ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের তখনকার সাধারণ সম্পাদক হাজারী। পলাতক অবস্থায় হাজারীর বিরুদ্ধে মোট ২৭টি মামলা হয়, যার মধ্যে পাঁচটিতে সাজার রায় হলেও উচ্চ আদালত তাকে সবগুলোতেই খালাস দেয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম

আরও পড়ুন