বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের কাছে ‘অবাস্তব’ প্রস্তাব ইরানের

Iran_ambassadorপাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশেরও ইরানের গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েজি। মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ডিক্যাব আয়োজিত ‘টক উইথ ইরান অ্যাম্বেসেডর’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। প্রসঙ্গত, ত্রিদেশীয় পাইপ লাইন প্রকল্প নিয়ে এখনও কোনো সমঝোতা না হওয়ায় এই দীর্ঘ পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ প্রস্তাবটি অবাস্তব বলেই মনে করেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, গ্যাসের পাইপলাইন টানা নিয়ে পাকিস্তানের সাথে সমঝোতা হচ্ছে। এটা ভারতের সঙ্গেও হবে। বাংলাদেশও এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে।

ড.বায়েজি বলেন, বাংলাদেশের সাথে ইরানের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক দিন দিন আরো সুদৃঢ় হবে। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও সহযোগিতা জোরদারে তার দেশ আগ্রহী বলে জানান তিনি।

ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের কাছ থেকে তারা তেল নেয়। পাকিস্তান হয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতে গ্যাস সরবরাহের কাজও চলছে। বাংলাদেশের সঙ্গেও আমরা অনুরূপ বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই । তাই বাংলাদেশ চাইলে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় গ্যাস দেওয়া সম্ভব। চট্টগ্রামে অবস্থিত তেল শোধনাগারটি আধুনিক করতে চাই। বাংলাদেশ থেকে আমাদের দেশে গার্মেন্ট পণ্যও আমদনি করতে চাই।

তিনি বলেন, সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্য এবছর বাংলাদেশের অনেক মন্ত্রী ইরান ভ্রমণ করবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

পরমাণু চুক্তি সম্পর্কে ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, বিশ্ব শান্তির জন্য এটা একটা বড় বিজয়। কারণ আলোচনার মাধ্যমে এই বিজয় অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে কেবল ইরানের বিজয় হয়েছে তাই নয়, এরমাধ্যমে উভয় পক্ষেরই বিজয় হয়েছে।

জঙ্গী ইস্যু সম্পর্কে আব্বাস ভায়েজি বলেন, ইরান সবসময়ই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। ইরান অনেকবারই সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে। ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে পরমাণু চুক্তি সম্পাদন করে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছি। তালেবান বা নতুন গজিয়ে ওঠা আইএস, কাউকেই ছাড় দেবে না ইরান।

ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্সসহ জার্মানির সঙ্গে মাসখানেক আগে আমরা পরমাণু চুক্তি চূড়ান্ত করেছি। আশা করছি কয়েক মাসের মধ্যেই চুক্তিটি কার্যকর হবে।

আরও পড়ুন