মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা জহির উদ্দিন মতিঝিলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। প্রতিদিন তিনি মৈত্রী পরিবহনে ‘সরাসরি সার্ভিসে’ ২০ টাকা দিয়ে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। মঙ্গলবার সকালে বাসে উঠতেই কন্ডাক্টর জানালেন ‘আজকে থেকে মতিঝিলের ডাইরেক্ট ভাড়া ২৫ টাকা’।
বাড়তি পাঁচ টাকা হঠাৎ কেন বাড়ল, যাত্রীদের প্রতিবাদের মুখে বাস কন্ডাক্টর জানালেন, ‘গ্যাসের ভাড়া বেড়েছে, তাই বাড়তি ভাড়া দিতে হবে।’ যাত্রীদের হৈচৈ গড়াল হাতাহাতিতে।
শাহবাগ থেকে সকাল ১০টার দিকে তরঙ্গ পরিবহনে মালিবাগ যাচ্ছিলেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কামরুজ্জামান রাজু। তার কাছ থেকেও কাকরাইলে এসে বাড়তি ১০ টাকা ভাড়া দাবি করেন কন্ডাক্টর। এক পর্যায়ে যাত্রীদের সাথে শুরু হলো ব্যাপক বিতণ্ডা, যা গড়াল মারামারিতে।
পহেলা সেপ্টেম্বর অফিসগামী বেশ কয়েকটি রুটের বাসে এভাবেই হঠাৎ ভাড়া বাড়ায় বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে যাত্রীদের। বাড়তি ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটি ও পরে মারামারির ঘটনাও ঘটেছে।
বাস চালকদের দাবি, সরকার গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করায় মঙ্গলবার থেকে বাস মালিক বলে দিয়েছেন জমা বেশি দিতে হবে। এ জন্য তারা ভাড়া বাড়িয়েছেন।
মতিঝিল শাপলা চত্বরে বাহন পরিবহনের চালক মোহাম্মদ শাজাহান বলেন, ‘ভাই, গ্যাসের দাম বাড়ছে না? আপনারাই কন। তাইলে ভাড়া বাড়বো না ক্যান? মানুষ বাসের মধ্যে নেতা হইয়া যায়। ক্যান, সরকাররে কইতে পারে না।’
তবে ভাড়া বাড়ানোর কথা অস্বীকার করেছেন বাস মালিক সমিতির সভাপতি এনায়েত উল্লাহ খান। তিনি মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর বলেন, ‘সরকার ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগ পর্যন্ত আমরা বাড়তি ভাড়া না নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। এ বিষয়ে আমরা মনিটরিংও করছি। তারপরও যদি কেউ বাড়তি ভাড়া নেন তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিব।’
১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য ফের বাড়িয়েছে সরকার। বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ এবং বিশ্বব্যাপী তেলের দাম ক্রমে হ্রাস পাওয়ার মধ্যেই এবার দাম বাড়ানো হলো। গ্যাসের দাম গড়ে ২৬ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং বিদ্যুতের দাম ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেড়েছে।
২৭ আগস্ট বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গ্যাস ও বিদ্যুতের এ নতুন মূল্যহার ঘোষণা করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গৃহস্থালি গ্যাসের মাসিক বিল গ্রাহকপ্রতি ২০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। পূর্বের এক চুলার জন্য ৪০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য ৪৫০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা করা হয়েছে। গৃহস্থালিতে মিটারভিত্তিক গ্যাসের বিল প্রতি ঘনমিটার ৫ টাকা ১৬ পয়সাকে বাড়িয়ে ৭ টাকা করা হয়েছে। গাড়িতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস বা সিএনজির দাম প্রতি ঘনমিটার ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করা হয়েছে।
এর আগে ২০০৯ সালে গ্যাসের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করে ১১ দশমিক ২২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। এ ছাড়া ২০১১ সালে দুই দফা সিএনজির দাম বাড়িয়ে প্রতি ঘনমিটার ৩০ টাকা করা হয়। গত বছরের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার টানা দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু গ্যাসের দাম বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান জানিয়েছিলেন।


