গ্রাহকদের প্রতি কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়া অনেকটা গোপনে বাড়ানো হয়েছে পানির দাম। জুলাই মাসের বিলের সঙ্গে পানি বাবদ অতিরিক্ত ৫ শতাংশ অর্থ গুণতে হচ্ছে গ্রাহকদের। একই হারে পরিশোধ করতে হচ্ছে স্যুয়ারেজ বিলও।
আবাসিক ব্যবহারের জন্য প্রতি ১০০০ লিটার পানির দাম ছিল আগে ৭ টাকা ৭১ পয়সা। আগস্ট থেকে তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৮ টাকা ৯ পয়সা। আর বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য প্রতি ১০০০ লিটার পানির দাম ২৫ টাকা ৬৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ টাকা ৯৪ পয়সা।
বিল বাড়লেও ঢাকা ওয়াসার সেবার মানে কোনো উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ নগরবাসীর। তারা বলছেন, অনেক এলাকায়ই ঠিকমতো পানি পাওয়া যায় না। এছাড়া পানিতে রয়েছে দুর্গন্ধ ও পোকামাকড়ের উপস্থিতি। আর স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা রয়েছে আগের মতোই।
বৃদ্ধির বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার দাবি, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধানের লক্ষ্যে এবং উৎপাদন খরচ ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সেবামূল্যের এ সমন্বয় করা হয়েছে।
পানির বিল দ্বিগুণ করা হয়েছে মিটারবিহীন আবাসিক সংযোগে। গ্রাহকরা বলছেন, সংশ্লিষ্ট হোল্ডিংয়ের বার্ষিক ঘরভাড়া দ্বিগুণ ধরে তার ৮ শতাংশ হারে বিল আদায় করছে ওয়াসা।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ওয়াসা বলছে, মিটারবিহীন সংযোগের ক্ষেত্রেও ৫ শতাংশ হারে বাড়ানো হয়েছে পানির দাম। এ বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার তাকসিম এ খান বলেন, ‘সেবামূল্য বাড়ানো হয়নি, সমন্বয় করা হয়েছে। হিসাব করলে দেখা যাবে দাম কমেছে। মূল্যস্ফীতির চেয়ে দাম বরং ২ টাকা কম নির্ধারণ করা হয়েছে।’
ওয়াসার পানির জন্য যে বিল নির্ধারিত: একজন নাগরিকের কাছ থেকে তার সমপরিমাণ বিল আদায় করা হয় স্যুয়ারেজ লাইন ব্যবস্থাপনা বাবদ। দেখা গেছে, ২০০৭-০৮ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত ঢাকা ওয়াসার আয়-ব্যয় দ্বিগুণ হলেও পয়ঃনিষ্কাশন সঞ্চালন লাইন না বেড়ে উল্টো কমেছে। পয়ঃনিষ্কাশন লিফট স্টেশনও কমেছে একটি। পয়ঃনিষ্কাশন শোধনাগার ও স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশনও বাড়েনি এ সময়ের মধ্যে।
ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ঢাকা মহানগরীর পয়ঃনিষ্কাশন সঞ্চালন লাইন ছিল ৮৮২ কিলোমিটার। ২০১১-১২ অর্থবছর নাগাদ তা কমে দাঁড়ায় ৮০৪ কিলোমিটারে।
২০০৭-০৮ অর্থবছর পর্যন্ত ঢাকা ওয়াসার ২৭টি পয়ঃনিষ্কাশন লিফট স্টেশন থাকলেও ২০১২-১৩ অর্থবছরে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ২৬। আর পয়ঃনিষ্কাশনের শোধনাগার রয়েছে মাত্র একটি।
এছাড়া বৃষ্টির পানি অপসারণের জন্য স্থায়ী পাম্পিং স্টেশন আগে যেখানে দুটি ছিল এখনো তা-ই আছে। যদিও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা থেকে ঢাকা ওয়াসার আয় বেড়েছে ঠিকই।
প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক বিবরণীতে দেখা গেছে, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা থেকে ঢাকা ওয়াসা পেয়েছে ৬৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা। ২০১২-১৩ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯২ কোটি ৪২ লাখ টাকা।
এদিকে, ঢাকা ওয়াসা পানির দাম বাড়ালেও এখনই মূল্যবৃদ্ধির দিকে যাচ্ছে না চট্টগ্রাম ওয়াসা। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুল্লাহ বলেন, এ মুহূর্তে দাম বাড়ানোর কোনো চিন্তাভাবনা নেই।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে আবাসিক ব্যবহারের জন্য প্রতি ১০০০ লিটার পানির দাম ৭ টাকা ২৫ পয়সা। আর বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য প্রতি ১০০০ লিটার পানির দাম নির্ধারিত আছে ২০ টাকা ৫৩ পয়সা।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


