সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ব্লগার হত্যা ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় আটকের ঘটনায়, অনলাইনে লেখালিখির ব্যাপারে মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে অজানা আতঙ্ক। আর তাই তথ্য-প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে বাংলাদেশে মুক্তবুদ্ধি চর্চার অবারিত যে ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে তা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন অনেকেই। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এর প্রভাব এখনই বোঝা না গেলেও মত প্রকাশের ক্ষেত্রে এ ধরণের শৃঙ্খলিত বোধ দেশকে ক্রমাগত পিছিয়ে দিচ্ছে।
২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাজধানীর শাহবাগে লাখ লাখ মানুষ স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। ৯০’র স্বৈরাচার পতনের পর এত বড় গণ-আন্দোলন আর দেখেনি বাংলাদেশের মানুষ। নেতৃত্বে নতুন প্রজন্ম। আন্দোলনের রসদ ছিল মত প্রকাশের শক্তি, আর হাতিয়ার তথ্য-প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় বিস্ময় ইন্টারনেট।
আর তাই কণ্ঠরোধের শুরুটাও হয় তরুণদেরকে দিয়েই। নতুন প্রজন্মের মুক্ত চিন্তার প্রসারকে থমকে দিতে একে একে খুন করা হয় , অভিজিত, অনন্ত, নিলয়সহ পাঁচ তরুণ ব্লগারকে। অভিযোগের তীর মৌলবাদীদের দিকে। অভিজিৎ-নিলয়দের মতো গণজাগরণের আরেক সক্রিয় কর্মী শাম্মী হক। নিয়মিত লেখালিখি করেন ফেসবুক ও ব্লগে। এসব ঘটনার কারণে তিনিও দিন পার করছেন প্রাণনাশের আশঙ্কায়। সম্প্রতি অপরিচিত দুই যুবক এক সন্ধ্যায় দীর্ঘক্ষণ অনুসরণ করে তার গতিবিধি। এরকম এক অনিশ্চয়তার মধ্যে শেষমেশ নিরাপত্তার জন্য থানায় জিডি করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
আর ব্লগারদের উপর এসব হামলা ও হুমকির প্রভাবটা সরাসরি পড়ছে তরুণ প্রজন্মের মুক্ত চিন্তাধারার উপর। বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্লগারদের উপর একটি মহলের নিয়মিত হামলার ঘটনা তো রয়েছেই এর উপর যুক্ত হয়েছে অনলাইনে লেখালেখির কারণে আইসিটি এ্যাক্টের ৫৭ ধারায় আটকের ঘটনা। যা মত প্রকাশের ক্ষেত্রগুলোকে সংকুচিত করে ফেলছে ক্রমাগত।
সব মিলিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের মুক্ত চিন্তা চর্চাকারীদের জন্য তৈরি হয়েছে এক উভয় সংকটময় পরিস্থিতি। এর ফলে তথ্য-প্রযুক্তির অগ্রগতির মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্বাধীন চিন্তার যে চারণভূমি তৈরি হচ্ছিল তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে অনেকখানি। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি চলমান থাকলে তা বাংলাদেশের চলমান যে অগ্রগতির ধারা তা তাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে অনেকইভাবেই।-সময়।
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম


