হিন্দি সিনেমার নতুন ধারার জনপ্রিয় সুরকার ও গায়ক আদেশ শ্রীবাস্তব মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫১ বছর। দীর্ঘ দিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন তিনি। শুক্রবার গভীর রাতে মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। রেখে গেলেন স্ত্রী বিজেতা পণ্ডিত এবং দুই ছেলেকে। আদেশের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বলিউডে।
বেশ কয়েক বছর ধরেই ক্যানসারে ভুগছিলেন আদেশ। বার দু’য়েক রোগের প্রকোপ বাড়লেও মোটামুটি সুস্থই হয়ে উঠছিলেন তিনি। কিন্তু এ বার আর পারলেন না। শেষ দেড় মাস ভর্তি ছিলেন হাসপাতালে। গত কয়েক দিন ধরে তিনি কেমোথেরাপিও নিতে পারছিলেন না। গতকাল সন্ধ্যায় প্রয়াত সুরকারের আত্মীয় যতিন পণ্ডিত বলেন, “বেশ কয়েক দিন ধরেই কেমো চলছে আদেশের। কিন্তু এখন আর তিনি সেই চিকিত্সায় সাড়া দিচ্ছেন না।” ডাক্তাররা যে অন্য চিকিত্সার কথাও ভাবছেন, তা-ও জানিয়েচিলেন তিনি। কিন্তু তার আর প্রয়োজন পড়ল না। হাসপাতালের তরফে জানানো হয়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ মৃত্যু হয়েছে তাঁর। শুক্রবারই ছিল তাঁর জন্মদিন। আর তার ঠিক পরের দিনই মৃত্যু হল প্রতিভাবান এই সুরকারের।
আদেশের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বলিউডে। শোক প্রকাশ করেছেন অমিতাভ বচ্চন থেকে শাহরুখ খান, রীতেশ দেশমুখ, অর্জুন কপূর, কৈলাশ খেররা। হাসপাতালে থাকাকালীন নিয়ম করে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতেন অমিতাভ। তাঁকে দেখতে এসেছিলেন অমিতাভ, শাহরুখ, ঐশ্বর্যা, শান, টিনা অম্বানিরা।
সুরকার হিসাবে শতাধিক হিন্দি সিনেমায় সুর দিয়েছেন আদেশ। সুর দিয়েছেন ‘বাগবান’, ‘চলতে চলতে’, ’কভি খুশি কভি গমে’-এর মতো বেশ কয়েকটি সুপারহিট সিনেমায়। ২০০৫ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত একটি বিখ্যাত গানের রিয়্যালিটি শোয়ে বিচারক ছিলেন তিনি। শিশুদের নিয়ে যৌন ব্যবসার প্রতিবাদে ‘সানা’ নামে একটি স্বল্প দৈর্ঘের ছবিও তৈরি করেছিলেন আদেশ।
শোকবার্তা জানিয়েছেন বলিউড তারকারা:
মাধুরী দীক্ষিত নেনে (অভিনেত্রী)
খুব প্রতিভাবান সুরকার এবং একজন ভাল মানুষকে হারালাম আমরা। ওনাকে মিস করব। তাঁর পরিবারের প্রতি সমবাদনা রইল।
কৈলাস খের (গায়ক)
আমরা দু’দিন আগে যখন ওকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম তখন ওর পরিবার চার সেপ্টেম্বর ওর জন্মদিন পালনের আয়োজন করছিল। কিন্তু ঈশ্বর ওকে সে দিনই ডাক পাঠাল।
সুস্মিতা সেন (অভিনেত্রী)
একজন সৈনিক যে সব সময় ঠিক সুরটায় হিট করত। আমাদের জীবন এত সুরে ভরিয়ে দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
সোনু নিগম (গায়ক)
আদেশের আত্মার শান্তি কামনা করি।
বিপাশা বসু (অভিনেত্রী)
আমরা একজন প্রতিভাবান মানুষকে হারালাম। কী এমন বয়স হয়েছিল!
কোয়েনা মিত্র (অভিনেত্রী)
আদেশের চলে যাওয়ার খবর শুনে খুব খারাপ লাগছে। কত তাড়াতাড়ি চলে গেল ও। আমার ভালবাসা, প্রার্থনা রইল ওর জন্য।
বাবা সায়গল (গায়ক)
নব্বইয়ের দশকে আদেশের সঙ্গে ডান্ডিয়া পারফরম্যান্স এখনও মনে পড়ে আমার। দারুণ মিউজিশিয়ান, খুব ভাল ড্রাম বাজাত। ওর আত্মার শান্তি কামনা করি।
আদেশের সেরা সাত গান:
আদেশ শ্রীবাস্তবের মতো সুরকারের কি মৃত্যু হতে পারে? তাঁর সৃষ্টিই তাঁকে শ্রোতাদের কাছে বাঁচিয়ে রাখবে। অমিতাভ বচ্চন থেকে শাহরুখ খান, রীতেশ দেশমুখ বা কৈলাশ খের সকলেই জানেন এটাই সত্যি। সুরকার হিসাবে শতাধিক হিন্দি ছবিতে সুর দিয়েছিলেন আদেশ। এখানে বেছে নেওয়া হল জনপ্রিয় কয়েকটি।
মোরা পিয়া (রাজনীতি)
সেমি ক্নাসিকাল এই গানটি নিজেই গেয়েছিলেন আদেশ। বলিউডে এ ধরনের গান খুব বেশি শোনা যায় না। এই গানে পর্দায় দেখা গিয়েছিল রণবীর কপূর এবং ক্যাটরিনা কইফকে।
সে সাওয়া সাওয়া (কভি খুশি কভি গম)
২০০১। মুক্তি পেল ‘কভি খুশি কভি গম’। আদেশের সুরে ‘সাওয়া সাওয়া’-র ছন্দে নেচে উঠল গোটা দেশ। অমিতাভ বচ্চন, অলকা যাজ্ঞিক, সুনিধি চৌহান, উদিত নারায়ণ এবং সুদেশ ভোঁসলে গানটি গেয়েছিলেন।
সুনো না সুনো না (চলতে চলতে)
‘চলতে চলতে’ ছবিতে জুটি বেঁধেছিলেন শাহরুখ খান এবং রানি মুখোপাধ্যায়। আর যতীন-ললিতের সঙ্গে জুটি বেঁধে ছবিতে সুর দিয়েছিলেন আদেশও। জনপ্রিয় হয়েছিল ‘সুনো না সুনো না’ গানটি।
গুমসুদা (চলতে চলতে)
‘চলতে চলতে’ ছবিতে একটি নাচের গান রাখার আবদার ছিল পরিচালকের। আর তা মাথায় রেখেই ‘গুমসুদা’ গানটিতে সুর দিয়েছিলেন আদেশ। পর্দায় শাহরুখের নাচ জমিয়ে দিয়েছিল ছবিটি।
চলি চলি ফির (বাগবান)
‘বাগবান’ ছবির সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আদেশ শ্রীবাস্তব। সেখানে অমিতাভ বচ্চন, অলকা যাজ্ঞিক এবং হেমা সরদেশাইয়ের গলায় তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিল ‘চলি চলি ফির’ গানটি।
সোনা সোনা (মেজর সাব)
‘মেজর সাব’ ছবির ‘সোনা সোনা’ গানটি ২০০৮-এ বিয়ের গানের সেরার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিল। সেখানেও সুরারোপ করে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন আদেশ।
গুস্তাকিয়া হ্যায় (আঁখে)
১৯৯৩-এ ‘আঁখে’ ছবির ‘গুস্তাকিয়া হ্যায়’ গানের মুড বুঝে সুর দিয়েছিলেন আদেশ। শ্রোতাদের মন জয় করেছিন গানটি।
নিজস্ব প্রতিবেদক, নয়াদিল্লি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


