দেশে শিশু অধিকার সুরক্ষায় এ পর্যন্ত যেসব নীতি বা আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, সেসব সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন হলে শিশু নির্যাতন, হত্যা বা শিশু শ্রমের মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটতো না বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৫ শতাংশ শিশুর বেড়ে ওঠার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি এবং তাদের অধিকার রক্ষায় ‘শিশু অধিকার কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।
রোববার বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় এ প্রস্তাব দেন তারা। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আইন সালিশ কেন্দ্রের (আসক) উদ্যোগে ‘শিশু অধিকার সুরক্ষায় প্রয়োজন একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় বিচারপতি ইমান আলী বলেন, ২০০৯ সালে একটি রায়ে শিশু অধিকার কমিশন গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার এ পর্যন্ত তা বাস্তবাযন করেনি। বিদ্যমান আইন, আন্তর্জাতিক সনদ বাস্তবায়নে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দরকার। সেটি ‘শিশু অধিকার কমিশন’ নামেও হতে পারে। এই কমিশন খাদ্য, পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশুকে নানা ধরনের হয়রানি থেকে সুরক্ষা দেবে।
বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী হামিদা হোসেন বলেন, শিশু অধিকার নিয়ে আইন আছে। সংবিধানেও শিশু অধিকারের কথা বলা আছে। কিন্তু এসব আইন মানা হচ্ছে না। একদিকে আইন লঙ্ঘন, অন্যদিকে আইনি ফাঁক-ফোকরের কারণে শিশুদের জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ! তাই শিশু অধিকার সুরক্ষায় অবশ্যই একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান দরকার। তবে কমিশন হলেই যে আমাদের দায়িত্ব শেষ, তা ভাবলে সেটি হবে আরেকটি বড় ভুল।
শিশুদের নিয়ে কাজ করা সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের উপ-পরিচালক শামসুল আলম মনে করেন, শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধের বিচার দ্রুত বিচার আইনে হওয়া উচিৎ। পাশাপাশি শিশু অধিকার সুরক্ষায় জাতীয়ভাবে একটি প্লাটফর্ম থাকা দরকার। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে সমন্বিত আলোচনা সভার কথা জানান তিনি।
সভার সভাপতি আসক’র নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, শিশুদের বর্তমানই যেখানে বিপন্ন সেখানে তার ভবিষ্যৎ কী? সবটুকু মানবিকতা দিয়ে আজ শিশু অধিকারের সুরক্ষা দিতে হবে। এ জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অবশ্যই প্রয়োজন আছে।


