বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তি যদি এক সঙ্গে দুই স্থানে ভোটার হওয়ার চেষ্টা করেন তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাজধানীর শেরে বাংলানগরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (নিক) সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম।
নিক-সচিব বলেন, ‘এর আগে যারা এভাবে এক সঙ্গে দুই জায়গার ভোটার বা দ্বৈত ভোটার হয়েছেন তাঁদের ক্ষেত্রে আমরা কোনো ব্যবস্থা নেইনি। কারণ সাধারণ মানুষ এ বিষয়ে তেমন জানত না। কিন্তু যেহেতু এখন মানুষ এ বিষয়ে জানে, তাই আমরা কঠোর অবস্থানে যাচ্ছি। এখন থেকে কেউ যদি দ্বৈত ভোটার হওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
দ্বৈত ভোটার হওয়া পুরোপুরি বেআইনি মন্তব্য করে সিরাজুল ইসলাম বলেন, কেউ দ্বৈত ভোটার হওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে হয়তো কমিশনের কিছুটা হয়রানি হবে। কিন্তু কেউ চাইলেও দ্বৈত ভোটার হতে পারবেন না। কারণ যখন তার ফিঙ্গার প্রিন্ট বা আঙুলের ছাপ মেলানো হবে তখনই তিনি ধরা পড়ে যাবেন। কাজেই দ্বৈত ভোটার হওয়ার কোনো সুযোগই এখন আর নেই।
জাতীয়পরিচয়পত্র সংশোধন বা হারানো কার্ড উত্তোলনের সেবা উপজেলা পর্যায়ে কেন দেওয়া হচ্ছে না- তা জানতে চাইলে সচিব বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে এ সংক্রান্ত কাজগুলো ঢাকাতেই করা হয়। তবে এই সেবা পেতে কাউকেই ঢাকা আসতে হবে না। নিজ নিজ উপজেলায় প্রয়োজনীয় ফরম পূরণ করে কাগজপত্র জমা দিলে উপজেলা থেকে সেগুলো ঢাকায় পাঠানো হবে। ঢাকা থেকে ঠিক করে সেগুলো আবার উপজেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। নাগরিকরা নিজের উপজেলা থেকেই সংশোধিত জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। উপজেলা থেকে এগুলো আনা নেওয়ার জন্য এরই মধ্যে প্রত্যেক উপজেলায় একজন করে কর্মী নিয়োগ দিতে বলা হয়েছে বলেও জানান নিক-সচিব।
পরিচয়পত্রের ঠিকানা পরিবর্তন সম্পর্কে সচিব বলেন, ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম পূরণ করতে হয়। এই ফরম উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে জমা দিলে তিনি পরবর্তী ব্যবস্থা নেন।
২৫ জুলাই থেকে তিন ধাপে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান সচিব। প্রথম ধাপে ১৮৯ উপজেলা, দ্বিতীয় ধাপে ১৮৭ উপজেলায় হালনাগাদের কাজ চলেছে। তৃতীয় ধাপে আজ সোমবার থেকে ঢাকা মহানগরীর ১৫ থানা এবং চট্টগ্রাম মহানগরসহ ১৩৮ উপজেলায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
এ সময় তথ্য সংগ্রহকারীকে যথাযথ তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে ঢাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান সচিব। তিনি বলেন, অনেক সময় দেখা যায় তথ্য সংগ্রহকারীরা কারো বাসায় গেলে ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। অনেকে অন্যদিন আসতে বলেন। এদের উদ্দেশে সচিব বলেন, ‘যখন তথ্য সংগ্রহকারী আপনার বাসায় যাবেন তখনই তথ্য দিয়ে দিন। কারণ পরে আবার আপনার বাসায় যাওয়ার মতো সময় তথ্য সংগ্রহকারীর নাও থাকতে পারে।’


