১৪ বছর আগের চট্টগ্রামে অপহরণের পর ধর্ষণের এক মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে মঙ্গলবার। রায়ে দুই আসামিকে দুই দফায় মোট ৬০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. রেজাউল করিম এই রায় ঘোষণা করেন। এছাড়া প্রত্যেক আসামিকে দুই ধারাতেই ৫০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন বিচারক।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সাতকানিয়া উপজেলার দ্বীপ চরতি গ্রামের ইয়াকুব আলী ও মো. মামুন। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেসমিন আক্তার বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারা ও ৯ (৩) ধারায় দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাদের দুই ধারাতেই আলাদাভাবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এই সাজা একটির পর অন্যটি কার্যকর হবে। জেসমিন আরো জানান, বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে যাবজ্জীবন সাজার মেয়াদ ৩০ বছর। এই হিসেবে দুই আসামিকে ৬০ বছর করে সাজা খাটতে হবে।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০১ সালের ২১ মে রাতে দুই আসামি দ্বীপ চরতি এলাকায় ২০ বছর বয়সী ওই তরুণীর বাড়িতে গিয়ে তার বড় ভাইয়ের নাম ধরে ডাকাডাকি করে। ওই কলেজছাত্রী ঘরের দরজা খুললে তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় ইয়াকুব ও মামুন। পরে চট্টগ্রাম নগরীর জাহেদ বোর্ডিংসহ কয়েকটি স্থানে আটকে রেখে ওই তরুণীকে তারা ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় একই বছরের ২৮ মে ওই তরুণীর ভাই মামলা করেন।
২০০১ সালের ৩ অাগস্ট পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় ২০০২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। মামলার ১১ জন সাক্ষীর মধ্যে পাঁচ জনের জবানবন্দি শুনে আদালত এই রায় দেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি.কম


