শতভাগ দেশীয় কাঁচামালের ওপর নির্ভর করে এখন দেশেই তৈরি হচ্ছে নিত্যনতুন চামড়ার তৈরি পণ্য। চামড়ার প্রক্রিয়াজাত এসব পণ্য স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি রপ্তানিও করছেন উদ্যোক্তারা। তবে আন্তর্জাতিক বাজার চাহিদার কথা মাথায় রেখে রপ্তানির হার আরও বাড়াতে লেদার গার্মেন্টস শিল্প স্থাপনের কথা বলছেন এ খাতের বিশেষজ্ঞরা।
এ কোনো কাপড় সেলাইয়ের দৃশ্য নয়। সুনিপুণ হাতের ছোঁয়ায় চামড়ার ওপর চলছে সেলাই মেশিনের সূচ আর সুতোর কারুকার্য। জুতো আর জ্যাকেটের চিরন্তন ধারণাকে ছাপিয়ে এখন চামড়া ব্যবহার হচ্ছে নিত্যনতুন সব ফ্যাশনেবল পণ্যে।
হ্যান্ডব্যাগ, সাইডব্যাগ, মানিব্যাগ আর বেল্টের পাশাপাশি দেশীয় উদ্যোক্তাদের এসব কারখানায় এখন তৈরি হচ্ছে চামড়ার মোবাইল-ট্যাব-ল্যাপটপ কভার। ঘর সাজানোর উপকরণও বাদ যাচ্ছে না এই তালিকা থেকে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী টিস্যু বক্স, গিফট বক্স, ফুলদানি, পাসপোর্ট হোল্ডার, ফটোফ্রেম এমনকি সোফার কুশন কভারও তৈরি হচ্ছে চামড়ার ব্যবহারে।
এ বিষয়ে লেদার কেভ’র প্রধান নির্বাহী তানিয়া ওয়াহাব বলেন, ‘আমরা কর্পোরেট গিফট বক্স, টিস্যু বক্স ছাড়াও ইন্টেরিয়রের কিছু জিনিসপত্র লেদার দিয়ে তৈরি করার চেষ্টা করছি।’
শুধু ঢঙে নয়, চলতি ফ্যাশনের কথা বিবেচনায় রেখে রঙেও রয়েছে নানা বৈচিত্র্য। এছাড়াও চামড়ার সাথে কাপড়, মেটাল, পাটের মিশেল পণ্যগুলোতে যোগ করছে আলাদা মাত্রা। আর উদ্যোক্তারা বলছেন, দেশীয় প্রক্রিয়াজাত চামড়ার দীর্ঘস্থায়ী বৈশিষ্ট্যের কারণে স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে এসব পণ্যের কদর বেড়েছে দেশের বাইরেও। ব্যাগ’র সত্ত্বাধিকারী আরিফুল বাশার জানান, ‘কম্বোডিয়া, জর্ডান ছাড়াও আফ্রিকার কিছু দেশে আমাদের তৈরিকৃত পণ্য রপ্তানি করছি।
এদিকে, এ শিল্পের প্রসার বাড়াতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্রয়াদেশ নির্ভরতা কমিয়ে উদ্যোক্তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন এ খাতের বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত চামড়ার পণ্যের আন্তর্জাতিক রপ্তানি বাজার ধরতে দেশে লেদার গার্মেন্টস শিল্প গড়ে তোলা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
সিউম্যাক প্রধান পরামর্শক মাইকেল এস সরকার বলেন, ‘লেদার গার্মেন্টসের ভালো মার্কেট আছে। ভালোভাবে তৈরি ও বিপণন করতে পারলে সাফরররররল্যের মুখ দেখবে।’ চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে স্বল্প সুদের শিল্প ঋণ প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা।
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম


