বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকরা নিজেদের ‘লাভের স্বার্থে’ শিক্ষার্থীদের ভ্যাটবিরোধী আন্দোলনে নামিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। বিশ্ববিদ্যালয় মালিকদের উদ্দেশ্যে সুরঞ্জিত বলেছেন, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাইসেন্স নিলেও আপনারা যথেষ্ট লাভ করছেন। লাভ করবেন কিন্তু ভ্যাট দিবেন না, তাতো হতে পারে না। মালিক অসুবিধায় পড়লে ছাত্রদের রাস্তায় নামায় দেবেন তা তো হতে পারে না। ভ্যাট শিক্ষার্থীরা নয়; দিতে হবে আপনাদের।
মালিকপক্ষ যাতে ভ্যাটের জন্য অতিরিক্ত টাকা আদায় করতে না পারে সেজন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তদারকি বাড়ানোর পরামর্শ দেন ক্ষমতাসীন দলের এই প্রভাবশালী নেতা।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বঙ্গবন্ধু একাডেমির আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি আরও বলেন, লাইসেন্স নেওয়ার সময় মালিকরা যদিও এটাকে নন-প্রফিটেবল বলেন, কিন্তু সেটা পরে আর নন-প্রফিটেবল থাকে না।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকদের ‘যোগ্যতার’ দিকে ইঙ্গিত করে সুরঞ্জিত বলেন, যারা এই বিশ্ববিদ্যালয় করেছে এরা কয়জন হাজি সাহেব সেটা তো আমরা জানি। এরা মনে করেন, এটা করলাম ওটা করলাম, ইটের ব্যবসা করলাম, তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবসাকেও যুক্ত করলাম।
হাতেগোনা কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া প্রায় সবগুলোর অবস্থা বেহাল মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাসা বাড়িতে ক্যাম্পাস খুলে বসেছেন। অধিকাংশেরই নিজস্ব ক্যাম্পাস নাই। ক্যাম্পাস না থাকলে সেটা বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে না।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্দোলন নিয়ে মুহিতের বক্তব্যে ‘সমস্যা সংকটে’ পরিণত হতে পারত মন্তব্য করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রবীণ মন্ত্রী জ্ঞানের অভাবের কথা বলেছেন। কার কি জ্ঞানের পরিধি সেটাতো আমরা একটা ফিতা দিয়ে মাপতে পারব না, এর জন্য কয়েকটা ফিতা লাগবে। এই ব্যাপারটা কারোরই ভাল লাগে নাই। প্রবীণ মন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে ক্ষমা চেয়েছেন, এজন্য তিনি খাটো হননি। এখন এটা নিয়ে শিক্ষকদের ক্ষোভ আর প্রশ্ন থাকতে পারে না। এর জন্য ক্লাস বর্জন আর কর্মবিরতি মতো কর্মসূচির দিকে যাওয়াও ঠিক হবে না বলেও মত দেন সুরঞ্জিত।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি অনুযায়ী স্বতন্ত্র বেতন-কাঠামো নির্ধারণে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থানে যাওয়া দরকার বলে মনে করেন সুরঞ্জিত। বলেন, পাবলিক ইউনিভার্সিটির শিক্ষকরা শুধু সম্মানের কথা বললে তো হবে না। মেধাবীদের উচ্চশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত রাখতে তাদের মান-মর্যাদা ঠিক রেখে সুযোগ সুবিধাও দিতে হবে।
গ্যাস বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পর গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর প্রেক্ষিতে জনগণের কষ্ট যাতে না বাড়ে সেদিকে নজর দেওয়ার দাবি জানান তিনি। সিএনজি ভাড়া যাতে মিটারে নেওয়া হয় এবং মালিকরা যাতে যখন-তখন ভাড়া বাড়াতে না পারে সেজন্য মনিটরিং বাড়াতে হবে বলে পরামর্শ দেন সুরঞ্জিত।


