বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

প্রথমবারের মতো দেশেই জিএম ধানের জাত উদ্ভাবন

wpid-br-52-narailজিনের পরিবর্তন ঘটিয়ে, প্রতিকূল পরিবেশে ফসল ফলানোর ঘটনা এখন আর নতুন নয়। বিটি বেগুন বা গোল্ডেন রাইসের নামের সাথে পরিচয় আছে কম-বেশি সবার। কিন্তু এ দুটি জাতের উদ্ভাবনই দেশের বাইরে। তাছাড়া এর কার্যকারিতা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

তবে এবার প্রথমবারের মতো জিএম বা জিনেটিক্যালি মডিফাইড দুটি ধানের জাত আবিষ্কার করেছেন, দেশেরই এক দল বিজ্ঞানী। যাদের নেতৃত্বে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেবা ইসলাম সেরাজ। তার দাবি, লবনসহনশীল এ দুটি নতুন জাতের ফলন যেমন বেশি, তেমনি এতে নেই কোনো ক্ষতির আশঙ্কা। জলবায়ু বদলের রেশ ধরে, প্রতিনিয়তই বাড়ছে বিশ্বের উষ্ণতা। আর এর প্রভাবে বাড়ছে সমুদ্রের পানি।

এতে লবন পানি ঢুকছে দেশের উপকূল অঞ্চলে। ফলে কমছে আবাদী জমি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে মোট ধানের জমি ৮০ লাখ হেক্টর। যার প্রায় ১৫ ভাগই এখন লবনাক্ত। আর এ কারণে ধানের আবাদ যেমন কমছে, তেমনি কমছে ফলনও। তাই ঝুঁকির মুখে খাদ্য নিরাপত্তা।

এই অবস্থা থেকে কৃষকদের রেহাই দিতে, বাংলাদেশেরই কয়েকজন বিজ্ঞানী সনাতন পদ্ধতিতে উদ্ভাবন করেন লবনসহনশীল ধানের জাত। কিন্তু ব্রি ২৮-ধানের চেয়ে ফলন কম হওয়ায়, তা জনপ্রিয় হয়নি কৃষক পর্যায়ে। বিষয়টি আমলে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপকের নেতৃত্বে একদল তরুণ বিজ্ঞানী নতুন করে শুরু করেন গবেষণা। ফলও পান হাতেনাতে। উদ্ভাবন করেন নতুন দুটি ধানের জাত। দেশের ইতিহাসে যা, প্রথম লবনসহনশীল জিএমও ধান।

জনপ্রিয় ব্রি ২৮ জাতের ধানে মটরসুটির জিন ঢুকিয়ে, তৈরি করা হয়েছে এই নতুন জাত। এর আবিষ্কারকের দাবি, নতুন এ দুটি জাতের ধান কেবল লবনাক্ত সহিষ্ণুই নয়, এতে ফলনও পাওয়া যাবে বেশি।

বিশ্বেব্যাপী জিনেটিক্যালি রূপান্তরিত উদ্ভিদ নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তবে স্থানীয়ভাবে আবিষ্কৃত ধানের এসব জাত কোনো ক্ষতির কারণ হবে না বলেই দাবি এই বিজ্ঞানীর। তাদের আশা, ধানের জাত দু’টি কৃষকের দোড়গোড়ায় পৌঁছালে, পাল্টে যাবে দক্ষিণের কৃষির চিত্র।

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম

আরও পড়ুন