বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ নামে পরিচালিত অভিযানকে দায়মুক্তি দিয়ে করা আইনকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট।
রোববার এই রায় দেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ নামে পরিচালিত অভিযানকে দায়মুক্তি দিয়ে করা আইনটি বাতিল হয়ে গেছে। ফলে ২০০৪ সালে যৌথবাহিনীর ওই অভিযানের (অপারেশন ক্লিনহার্ট) সময় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা ক্ষতিপূরণ চেয়ে ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা করতে পারবেন।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর যৌথ বাহিনীর ওই অভিযান চলে। ওই অভিযানের কার্যক্রমকে দায়মুক্তি দিয়ে ২০০৩ সালে এই দায়মুক্তি আইনটি করা হয়।
ওই আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্না ২০১২ সালে জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে ওই বছরের ২৯ জুলাই হাইকোর্ট রুল দেন। আইনসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও প্রতিরক্ষা সচিবসহ পাঁচ বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। এ রুলের ওপর শুনানি শেষে ১৩ সেপ্টেম্বর রোববার রুল নিষ্পত্তির দিন ধার্য করা হয়।
রিট আবেদনকারীর যুক্তি, বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালে নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক কনভেনশনে সই করেছে। এর ১৪ ধারা অনুসারে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে কেউ নির্যাতিত হলে ও এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রয়োজনে ক্ষতিপূরণ প্রদানে রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হবে।
অথচ দায়মুক্তি আইনে বলা হয়, অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত কেউ কোনো আদালতে প্রতিকার চাইতে পারবেন না। কারও বিরুদ্ধে মামলা বা বিচার প্রার্থনা করা যাবে না, যা এটা সংবিধানের মৌলিক অধিকারের ধারণার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।
আবেদনকারী বলেন, “নির্যাতিত হবে, খুন হবে কিন্তু প্রতিকার চাওয়া যাবে না- এর চেয়ে কালো ও খারাপ আইন হতে পারে না। বিচারবহির্ভূত যে কোনো হত্যাকাণ্ড আইনের শাসনের পরিপন্থি।”


