দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতিনিয়তই বাড়ছে শিক্ষার ব্যয়। কিন্তু সে তুলনায় বাড়ছে না শিক্ষার মান। আর এ জন্য আঙুল উঠছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেখভালের দায়িত্বে থাকা মঞ্জুরি কমিশনের দিকে। তবে তাদের মত, দায়িত্ব থাকলেও রয়েছে ক্ষমতার অভাব। আর শিক্ষাবিদরা, বলছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে দরকার যৌক্তিক কাঠামো প্রণয়ন।
রাজধানীর স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ। যেখানে গত ২ বছর আগেও প্রতি সেমিস্টারে এক ক্রেডিটের জন্য খরচ ছিলো ১১ শ’ টাকা। এরপর এখন সেখানে খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে দিগুণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতি সেমিস্টারে খরচ বাড়লেও বাড়েনি শিক্ষার মান। শুধু এ বিশ্ববিদ্যালয়েই নয়, এমন চিত্র দেশের প্রায় সবগুলো বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই।
দেশে বর্তমানে অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৮৩টি। যেখানে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ নিচ্ছেন প্রায় ৬৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। আর একেই পুঁজি করে প্রতিনিয়তই ব্যবসায়ীক স্বার্থ আদায় করছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যদিও এদের দেখভালের জন্য দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন। তারপরেও প্রতিনিয়তই শিক্ষার পেছনে যে লাগামহীন ব্যয় বাড়ছে সে অনুযায়ী কেনই বা বাড়ছে না বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান?
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মো. মহব্বত খান মনে করছেন, কমিশনকে উচ্চ শিক্ষা কমিশনে রূপান্তর করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষমতা দেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফিরোজ আহমেদের মতে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তুকি না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের ইচ্ছেমত টিউশন ফি নির্ধারণ করছে।
তবে, শিক্ষাবিদরা বলছেন, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান বাড়াতে হলে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদারকি প্রয়োজন। তারা বলছেন শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধা, শিক্ষকের মান, কিংবা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য অযৌক্তিকভাবে কোন প্রতিষ্ঠান যদি টিউশন ফি বাড়ায় কিংবা এ বিষয়ে যদি কোন অভিযোগ আসে তাহলে সে বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে কমিশনের উচিত হবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম


