ট্যানারি মালিকদের অসহযোগিতা আর বিসিকের অনিয়মের কারণে বরাদ্দ পেয়েও সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে জায়গা হারিয়েছেন শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী আর শ্রমিক সংগঠনগুলো। ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন, এরই প্রভাবে হাজারীবাগে নতুন বিনিয়োগে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন অনেকেই, অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে অসংখ্য ট্যানারি শ্রমিকের ভবিষ্যৎ।
এদিকে শিল্প সংশ্লিষ্ট এসব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার না করলেও তাদের পুনর্বাসনে কিছুই করার নেই বলে জানান ট্যানারি মালিকরা। এক্ষেত্রে সরকারকেই কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দেন তারা।
বংশ পরম্পরায় হাজারীবাগের ট্যানারি এলাকায় কাজ শুরু করেন লক্ষাধিক শ্রমিক, ঠেলাচালক, আর ব্যবসায়ী। কিন্তু সাভারে শিল্পনগরী চালুর তোড়জোড় শুরু হওয়াতেই ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন তারা।
ট্যানারি থেকে চামড়ার ফেলে দেয়া অংশ, পশুর মাথা বা লেজের চামড়ার কোন কিছুই এখন আর বাদ যায় না। এসব দিয়ে তৈরি হয় চামড়াজাত নানা পণ্য, যদিও আগে ফেলে দেয়া চামড়ার এসব অংশ ধরা হতো শুধুই বর্জ্য হিসেবে। একইভাবে ট্যানারিতে কাঁচা চামড়া প্রবেশের পর থেকে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ করতে কয়েক ধাপে ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক। শুধু রাসায়নিক ব্যবসায়ীরাই নন, নিজ উদ্যোগেই হাজারীবাগে কার্যক্রম শুরু করেছিলেন বাণিজ্যিক রফতানিকারক বা ঝুট ব্যবসায়ীরাও।
শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে দ্বিমত নেই চামড়া ব্যবসায়ীদেরও, তবে এক্ষেত্রে কিছুই করার নেই বলেও মত তাদের। শিল্প-নগরীতে জায়গা বরাদ্দের বিষয়টি শিগগিরই সুরাহা করতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে চামড়া শিল্প সংশ্লিষ্ট সংগঠন সমন্বয় কমিটি, অন্যথায় হাজারীবাগ থেকে কোনো ট্যানারি স্থানান্তর করতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।


