কোনো বিচারককে অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকলেও তার পদ্ধতি নিয়ে এখনো আইন হয়নি। প্রশ্ন হলো প্রধান বিচারপতির অপসারণ চেয়ে আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি যে আবেদন জানিয়েছেন তার নিষ্পত্তি হবে কীভাবে? একজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান বলছেন, দুই বিচারকের এই বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পর্যায়েই। এই শপথ রাগ অনুরাগকে প্রশ্রয় না দেয়ার। বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধেই তার এক সহকর্মী আনলেন সেই শপথ ভঙ্গের অভিযোগ।
আপিল বিভাগের বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী গত রোববার চিঠি লিখেছেন রাষ্ট্রপতির কাছে। চেয়েছেন প্রধান বিচারপতির অভিশংসন বা অপসারণ। চিঠিতে বলেছেন, ব্যক্তিগতভাবে রুষ্ট হয়ে প্রধান বিচারপতি তাঁকে সরিয়ে দিয়েছেন আপিল বিভাগের ১ নম্বর আদালত থেকে। এমনকী অবসরকালীন ভাতা বা পেনশন সুবিধার কাগজপত্রও প্রস্তুত করতে নির্দেশ দিচ্ছেন না অধস্তনদের।
ব্যক্তিগত এই ক্ষতির কারণে প্রধান বিচারপতির অপসারণ চাওয়া কতোটা যৌক্তিক? অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান ও সংসদীয় কমিটির এই সভাপতি বলছেন, আপিল বিভাগের দুই বিচারপতির রেষারেষি কাম্য নয়। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে এসব পেশাগত সমস্যা নিজেদের মধ্যেই সমাধানের অনেক নজির রয়েছে। তবে সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশে বিচার বিভাগের নিরংকুশ কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে প্রধান বিচারপতিকে।
সেই রকমভাবে আপিল বিভাগের দুই বিচারপতির সমস্যার সমাধান চাচ্ছেন অনেকে। তবে সমস্যা অন্যখানে। সংবিধানের সবশেষ সংশোধনী অনুযায়ী কোন বিচারককে অপসারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সংসদকে। আর বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি নির্ধারণে আইন করারও নির্দেশনা রয়েছে।
কিন্তু এখনো সেই আইন করেনি সরকার। আইন না থাকলেও কারও বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আসলে সংসদ নিজেই একটি প্রক্রিয়ায় তাকে অপসারণ করতে পারবে বলে মনে করেন মিজানুর রহমান খান।
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম


