বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

এবারও জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী, যাচ্ছেন ২৩ সেপ্টেম্বর

hasina-unজাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশন শুরু হচ্ছে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সে অধিবেশনে সংস্থার সদস্যভুক্ত অন্য দেশের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে যোগ দেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জানান, এবারের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন। ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ‘সাধারণ বিতর্ক অধিবেশনে’ বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন শেখ হাসিনা। প্রতিবারের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ভাষণ দেবেন।

বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত এ সফরে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি ঘোষণা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

এর মধ্যে ২৫ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ড লিডার ফোরাম অ্যাট কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি-‘জি গার্ল লিড দ্যা অ্যাওয়ে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন। একই দিন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিজনেস কাউন্সিল ফর ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারস্ট্যান্ডিং (বিসিআইইউ) এর সঙ্গে বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি ও সম্ভাবনা বিষয়ে মতবিনিময় করবেন। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেশ থেকে একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল যোগ দেবেন।

২৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ‘ফোস্টারিং সাসটেইনেবল ইকোনোমিক গ্রোথ, ট্র্যান্সফরমেশন অ্যান্ড প্রমোটিং’ শীর্ষক ‘সাসটেইনেবেল কনজামপশন অ্যান্ড প্রোডাকশন ইন্টারেকটিভ ডায়ালগ’ সেশনে যৌথ সভাপতিত্ব করবেন। এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলের অন্যতম সরকার প্রধান হিসেবে তাকে এ বৈঠকে যৌথ সভাপতিত্ব করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

২৭ সেপ্টেম্বর ‘ইউএন সামিট দ্য অ্যাডাপশন অব দ্য পোস্ট-২০১৫ ডেভেলপমেন্ট এজেন্ডা’র প্ল্যানারি সেশনে বক্তব্য দেবেন।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে ও বক্তব্যে বংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরবেন এবং এমডিজি অর্জনের সাফল্যের ধারায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার ও প্রত্যয়ের কথা পুনর্ব্যক্ত করবেন। রূপকল্প ২০২১ এর আলোকে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় টেকসই উন্নয়ন ক্ষ্যমাত্রাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে সরকার ইতোমধ্যে যে কার্যক্রম শুরু করেছে, সে বিষয়েও তিনি আলোকপাত করবেন এবং এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে বাংলাদেশের প্রত্যাশাগুলো তুলে ধরবেন।

২৭ সেপ্টেম্বর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিংয়ের আমন্ত্রণে ‘গ্লোবাল লিডারস মিটিং অন জেন্ডার ইকুয়ালিটি অ্যান্ড উইমেনস এমপাওয়ারমেন্ট’ এ অংশগ্রহণ করবেন। এ বৈঠকে তিনি বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন, নারী শিক্ষার প্রসার, নারী ও কন্যাশিশুদের অধিকার সুরক্ষা এবং লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে বক্তব্য দেবেন।

২৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উদ্যোগে ‘হাই লেভেল অন পিস অপারেশনস্’ আয়োজন করা হয়েছে। গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে যৌথ সভাপতিত্ব করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি ছাড়া অন্যান্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘ মহাসচিব এ সম্মেলনে যৌথ সভাপতিত্ব করবেন।

২৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উদ্যোগে অনুষ্ঠিতব্য ‘লিডারস্ সামিট অন কান্ট্রিং আইএসআইএল অ্যান্ড ভায়োলেন্ট এক্সট্রিম’ এ যোগ দেবেন।

২৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের উদ্যোগে মুভিং ফ্রম এমডিজিস্ টু এসডিজি: বাংলাদেশ এক্সপেরিয়েন্স অ্যান্ড এক্সপেকটেশন’ শীর্ষক একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এই বৈঠকে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিবারের মতো এবারও তিনি বাংলায় ভাষণ দেবেন। তার ভাষণে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়ন, অভিবাসী শ্রমিকের অধিকার আদায়, দারিদ্র্য দূরীকরণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা ও সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্যের কথা তুলে ধরবেন।

একই সঙ্গে তিনি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কিছু সুনির্দিষ্ট বক্তব্য উপস্থাপন করবেন।

এ সফরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র, সরকার প্রধানদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিয়ে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বৈঠকের তারিখ ও সময় নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুন