রিজার্ভের টাকা দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিনিয়োগ করা হবে জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, এটি পদ্মাসেতুসহ যে কোনো বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে হতে পারে।
শনিবার রাজধানীর মিরপুর বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘দ্বিতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা ২০১৫-২০১৯’ এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা জানান।
আতিউর রহমান বলেন, “দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার রিজার্ভের টাকা বিনিয়োগ করবে। সরকার যখন নিজ তহবিলে পদ্মাসেতু তৈরির ঘোষণা দেয় তখন থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ ধরনের প্রস্তুতি ছিল। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমান ২৬ বিলিয়ন ইউএস ডলার। যা দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। কেউ যদি টেকসই অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য সাত বা আট বিলিয়ন মূল্যমানের বড় প্রকল্প নিয়ে আসে তবে তার ক্ষেত্রেও রিজার্ভ অর্থ বিনিয়োগ করা হবে।”
তিনি বলেন, “২০১০-২০১৪ সালের কর্মপরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে। এ কর্মপরিকল্পনার কারণেই এ বছর ১৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকার কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। এছাড়া বর্গাচাষিদের জন্য পাঁচশো কোটি টাকার বিশেষ ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। সারা বিশ্বের মুদ্রাবাজারে টাল-মাতাল অবস্থার মধ্যেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও মুদ্রার মান স্থিতিশীল রয়েছে।”
বিনিয়োগ প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে অনুষ্ঠানের আরেক অতিথি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী বলেন, “একটি দেশের আমদানি ব্যয় মেটাতে কমপক্ষে তিন মাসের টাকা রিজার্ভে রাখার নিয়ম। আমাদের যে ২৬ বিলিয়ন ডলার আছে তা দিয়ে প্রায় সাত মাসের ব্যয় মেটানো সম্ভব। এতে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে। সার্কের মধ্যে আমরা এখন রিজার্ভে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছি।”
তিনি আরো বলেন, “আমাদের এ টাকা পদ্মাসেতু তৈরিতে ব্যয়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এ কাজে যে পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা প্রয়োজন হবে তা এখান থেকে দেওয়া হবে। পলিসি অনুযায়ী অবকাঠামোগত উন্নয়নে এখান থেকে টাকা ব্যবহার করা হবে। তাই দেশের মধ্যে যারা অবকাঠামোর উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে তাদেরকে দেড় থেকে দুই শতাংশ সুদে এ টাকা দেওয়া হবে।”


