বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সেপটিক ট্যাঙ্কে বাবাসহ ব্যাংক কর্মকর্তা মেয়ের লাশ

Khulna_Newsworldbdখুলনায় সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে এক্সিম ব্যাংকের ক্যাশ কর্মকর্তা পারভিন সুলতানা (২৪) ও তার বৃদ্ধ বাবা ইলিয়াস হোসেন চৌধুরীর (৭০) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ব্যাংক কর্মকর্তার নাম পারভীন সুলতানা (২৪)। তিনি এক্সিম ব্যাংকে চাকরি করতেন।

পরিবারের অভিযোগ এবং পুলিশের ধারণা তাদেরকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের লবনচোরা থানার ভিতর বুড়া মৌলভীর দরগার পিছনে ৩ নং রোড়ে একটি টেন-শেড বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এই বাড়িতে বাবা-মেয়ে একাই গত তিন বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন।

নিহত অপর ব্যক্তি পারভীনের বাবা ইলিয়াস হোসেন চৌধুরী (৭০)। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের লবনচোরা থানায় বুড়া মৌলভীর দরগার পেছনে তিন নম্বর রোডের টিনশেড বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত পারভীনের ভাই রেজাউল আলম চৌধুরী জানান, এই বাড়িতে পারভীন ও ইলিয়াস গত তিন বছর ধরে থাকতেন। রেজাউল এ বাড়িতে থাকতেন না বলে জানিয়েছেন।

নিহত ব্যাংক কর্মকর্তার ভাই রেজাউল আলম চৌধুরী জানান, ঢাকা থেকে তার বড় বোন মোবাইলে জানান- পারভিন এবং তাদের বাবার মোবাইল ফোন দীর্ঘক্ষণ ধরে বন্ধ পাচ্ছেন। তিনি দ্রুত বাড়িতে গিয়ে তাদের খোঁজ নিতে বলেন। এই সময় তিনি বাড়িতে এসে দেখেন দরজায় তালা মারা।

তিনি বলেন, পরে আমি এবং আবু সাইদ নামে একজন ভিতরে প্রবেশ করি। এ সময় ঘরের সমস্ত আসবাব এলোমেলো এবং ব্যাংকের চেক বই ছড়ানো ছিটানো দেখতে পাই। পরে দুই সেফটিক ট্যাঙ্কে বাবা ও বোনের দেহ পড়ে থাকতে দেখি। তাদেরকে সেখান থেকে উদ্ধার করে বুঝতে পারি, দুইজনই মৃত।

রেজাউল আলম চৌধুরী আরও জানান, পারভিন সুলতানার এক বছর আগে বিয়ে হয়েছে। তার স্বামীও একই ব্যাংকে ঢাকায় কর্মরত আছেন। ঘটনা শোনার পর তিনি খুলনার পথে রওনা হয়েছেন।

হরিনটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, তারা খবর পেয়ে ১১টার পর ঘটনাস্থলে আসেন। লাশ দুটির গলায় শ্বাসরুদ্ধের চিহ্ন রয়েছে। ঘাতক চক্র নিহতদের পরিচিত বলে তিনি ধারণা করা হচ্ছে। ডাকাতি করার সময় চিনে ফেলায় তাদেরকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তিনি বলেন, বাসার বাইরে রক্তমাখা একটি রাম দা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘরের ভিতর সিগারেট খাওয়ার চিহ্ন রয়েছে। ঘরের মধ্যে একটি কনডম পাওয়া গেছে, যা আলমত হিসাবে জব্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এই রিপোর্ট লেখা পযর্ন্ত লবনচোরা থানা পুলিশ লাশ দুটির সুরাত হাল রিপোর্ট তৈরি করছে। নিহত বৃদ্ধ ইলিয়াস হোসেনের গলায় ফাঁসের দাগ রয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তা পারভিন সুলতানার দেহ বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

নিহতর ভাই রেজাউল আলম চৌধুরী জানান, তার বাবা এইখানে তিন বছর আগে টিনশেডের বাড়ি তৈরি করেছেন। তবে তিনি (রেজা) শহরে ইজিবাইক চালান বলে অন্যত্র থাকেন।

খুলনার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) জাহাঙ্গির হোসেন বিশ্বাসসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত বলে ধারণা করছেন।

আরও পড়ুন