আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীসহ সারা দেশে তৎপরতা বেড়েছে অজ্ঞানপার্টি চক্রদের। এই চক্রটি অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠে এই সময়ে। এদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তৎপর রয়েছে। গত কয়েকদিনে রাজধানীর পৃথক এলাকায় অভিযান চালিয়ে অজ্ঞানপার্টি চক্রের ১৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে খবরটি জানানো হয়।
ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) মুনতাসীরুল ইসলাম জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় কলাবাগান থানার কলাবাগান আন্তঃজেলা হানিফ বাস কাউন্টারের সামনে অভিযান পরিচালনা করে অজ্ঞান পার্টি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা ও অপরাধতথ্য বিভাগ। এরা হলো- আবুল বাশার মোল্লা, মইনুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন, নাছিমা ও মাকুল। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪৩টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৪টি চেতনানাশক ট্যাবলেট, পাঁচটি মানিব্যাগ ও ছয়টি ব্লেড উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্র। সাধারণত দূরপাল্লার গাড়ীগুলো তারা টার্গেট করে থাকে। কলাবাগান বাসষ্ট্যান্ড থেকে বাসে ওঠা ভ্রমণরত যাত্রীকে তারা টার্গেট করে। পরবর্তী সময়ে খাতির জমিয়ে পিঠা বা অন্যান্য খাবার সরবরাহ করে। আবার কখনও বাস কর্তৃক সরবরাহকৃত পানির বোতল কৌশলে বদলে দিয়ে চেতননাশক ট্যাবলেট মিশিয়ে দেয়। এভাবেই অজ্ঞান করে তারা একজন যাত্রীর সর্বস্ব লুটে নেয়।
একই সময়ে ডিবির অন্য একটি টিম ঢাকা মহানগরীর গুলিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অজ্ঞান পার্টি চক্রের নয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। এরা হলো- নিয়ামুল শরীফ আহাম্মেদ, আল আমিন, কবির আকন, কালু মিয়া, সাদ্দাম, আলমগীর হোসেন, আলম ওরফে শাহআলম, হাফিজ মিয়া ওরফে টুকু ও বিল্লাল বেপারী। এ সময় তাদের কাছ থেকে একজন ভিকটিম (মোস্তাকিম), ১০০টি নেশাজাতীয় এটিভেন-২ ট্যাবলেট ও একটি চুরি করা সিএনজি উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা চার-পাঁচ বছর ধরে এ পেশার সাথে জড়িত। তাদের প্রতিটি গ্রুপে ২০-২৫ জন সদস্য থাকে। ইতোপূর্বে তারা একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বের হয়ে আবারও একই অপরাধ করে।
দলনেতা আসামি নিয়ামূল শরীফ চলতি বছরের ২ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও একই কাজ অব্যাহত রাখে। সেলিম নামে তাদের এক সদস্য এটিভেন-২ ট্যাবলেট সংগ্রহ করে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে। সেলিমসহ এই চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
এদিকে শনিবার রাত ৯টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ি থানার বাসটার্মিনাল এলাকা থেকে অজ্ঞান পার্টি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা ও অপরাধতথ্য বিভাগ। এরা হলো- সুমন, সোহেল, সাইফুল ও রকিব। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০টি মিলাম ট্যাবলেট, ৪০টি নকটিন ট্যাবলেট ও চারটি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়, তারা সায়দাবাদ-কুমিল্লা, সায়দাবাদ-বরিশাল, সায়দাবাদ-চট্টগ্রামের বিভিন্ন গাড়িতে হকার বেশে উঠে বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের সাথে নোশাজাতীয় ট্যাবলেট মিশিয়ে খাওয়ায়। তাদের কেউ কেউ যাত্রীবেশে বাসে বসা থাকে। যাত্রী অজ্ঞান হয়ে গেলে তার সর্বস্ব কেড়ে নেয় তারা।


