ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় জমে উঠেছে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার পশুর হাটগুলো। ভারতীয় গরু কম আসায় এবার দেশী প্রজাতির পশুর বেশ কদর। সেইসঙ্গে ‘মোটাতাজা’ গরুগুলোর দিক থেকেও চোখ ফিরিয়ে নিয়েছেন ক্রেতারা। তাই দেশি গরুর বেপারীরাও দাম হাঁকছেন ইচ্ছামতো। দরকষাকষি শেষে গরু নিয়ে খুশি মনেই বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে অনেক ক্রেতাকে। তবে কিছু কিছু হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।
বগুড়ার মহাস্থান, সুলতানগঞ্জ, চাঁদমুহা ও ঘোড়াধাপ হাট ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানির প্রচুর গরু, মহিষ, ছাগল উঠেছে। পশুর উপস্থিতিতে হাটগুলো প্রায় কানায় কানায় পূর্ণ। কোথাও কোথাও রাস্তার ওপরও রাখা হয়েছে কোরবানির পশু।
মাঝারি ও ছোট আকারের গরুর চাহিদা বেশি থাকায় সেগুলোর দামও বেশি। পাশাপাশি বড় গরুর ক্রেতা কম হওয়ায় দাম তুলনামূলক কম। এবার জেলার ১২টি উপজেলায় ৭৮টি পশুর হাট স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে মহাস্থান, মোকামতলা, ধাপেরহাট, সুলতাগঞ্জ হাট ও কালীতলা হাট উত্তরাঞ্চলের মধ্যে অন্যতম। এ সব হাটের পশু ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে।
জেলার কাহালু উপজেলার খামারি আইনুর রহমান দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, হাটে অনেক পশু উঠেছে। ফলে দাম খুব একটা বাড়েনি। পশু বিক্রি করে বেশি লাভ হয়তো হবে না।
বগুড়া সদরের কুকরুলের খামারি আবু বক্কর জানান, ভারত থেকে গরুর আসছে এমন খবরে দেশীয় পশুর দাম বাড়েনি। ভারত থেকে পশু এলে গরুর দাম আরও কমে যাবে। তখন খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়বেন।
বগুড়া সদরের ঘোড়াধাপ হাটে আসা ক্রেতা আব্দুল বারেক খান জানান, পশুর দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আছে। মনে হয় দেশীয় পশুর আমদানি বেশি।
চাঁদমুহা হাটে আসা ক্রেতা ছাইদুর রহমান জানান, পশুর দাম স্বাভাবিক। হাটে এসে এক ঘণ্টার মধ্যে পশু পছন্দ করে কিনেছি। হাটে সব ধরনের পশুর উপস্থিতি অনেক। কিন্তু এখানে গরু কেনার খাজনা অনেক বেশি।
পশু ক্রেতা আজমল হোসেন জানান, গরু কেনার পর অতিরিক্ত খাজনা আদায় করছেন ইজাদাররা। হাটে প্রতিটি পশুর জন্য সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭৫০ টাকা খাজনা আদায় করা হলেও স্থানীয় প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
বগুড়া জেলার অতিরিক্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, বগুড়া জেলার ১২ উপজেলায় ১ হাজার ২৬১ জন খামারি ও ১৯ লাখ ৩৭ হাজার ২১৫টি গবাদিপশু রয়েছে। এর মধ্যে গরু ১২ লাখ ৮ হাজার ২৭৬, মহিষ ১৬ হাজার ৩৬৮, ছাগল ৬ লাখ ১৪ হাজার ৮৩৬ ও ভেড়া ৯৭ হাজার ৭৩৫টি। খামারিরা এবারের ঈদুল আজহার জন্য ৭৩ হাজার ৫৫১টি পশু দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করেছেন, যার মধ্যে গরু ৩৭ হাজার ১২২, মহিষ ৭২৬, ছাগল ২৮ হাজার ৬৮৩ ও ভেড়া ৭ হাজার ২০টি।


