ছেলের সামনে মাকে ধর্ষণের ঘটনায় এলাকাবাসীর বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে ৪জন নিহত হয়। আর এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে পুলিশ বাদী হয়ে দুই থানায় অজ্ঞাত ৭০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ে করেছে। এতে কালিহাতী ও ঘাটাইলের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া গ্রামগুলো প্রায় পুরুষ শূন্য হয়ে গেছে। হুলিয়া মাথায় নিয়ে গ্রাম ছেড়েছেন অনেকে। দিনের বেলায় সতর্কতার সাথে চলাচল করলেও রাতে নিজ বাড়িতে থাকছেন না কেউ। পুলিশের গ্রেপ্তার আতংকে ভুগছে বিক্ষোভে অংশ নেয়া ওই সকল গ্রামের জনসাধারণ।
পুলিশের গুলিতে নিহতের পরিবার থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা না হলেও সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ এনে শনিবার রাতে ঘাটাইল থানার এসআই মুনসেফ আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৪০০ জনের নামে মামলা করেন। আর কালিহাতী থানার এসআই মোশারফ হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন অজ্ঞাত ৩০০ গ্রামবাসীর নামে।
মামলা দায়েরের পর শনিবার রাতেই কালিহাতী থানা পুলিশ ৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। তবে আটকের ঘটনায় তাদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
জনতার বিক্ষোভে পুলিশের গুলি বর্ষণে কতটা যৌক্তিক ছিলো, কেন এই বিক্ষোভের ঘটনা ঘটলো, কারা এর সাথে জড়িত এসব বিষয়ের কারণ খুঁজতে কাজ শুরু করেছে তদন্ত কমিটি। পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আলমগীর আলমকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশের তদন্ত দল কালিহাতী ও ঘাটাইলের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লোকজনের সাথে কথা বলেছে। এছাড়া টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সরোয়ার হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ তারা কাজ শুরু করেছে।
এদিকে ঘটনার চারদিনেও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে কালিহাতী ও হামিদপুরে। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোড়ে মোড়ে মোতায়েন আছে পুলিশ।


