বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

কথা বলছিলেন বাংলাদেশে, খুন হলেন দক্ষিণ আফ্রিকায়

দেশে ফোর করে মার সঙ্গে কথা বলছিলেন। ‘মা আঙ্গো কুরবানির গরু কিনছেন নি? দাম কত অইছে? আর গরু জবাই করি আঙ্গো ব্যাক আত্মীয় স্বজনের বাইত গোসত পাঠাই দিয়েন। যেন ক্যা বাদ ন যায়…..’ এ কথা বলতে বলতেই হঠাৎ গুলির শব্দে থেমে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী হাজী মো. মাসুদ আলমের (৩৬) বাকশক্তি। মুহূর্তের মধ্যেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নিথর হয়ে যায় দেহ।

বাংলাদেশ সময় বুধবার বেলা ১১টার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার ভুলুমপোন্টিম শহরে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সে দেশি সন্ত্রাসীদের গুলিতে বিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান মাসুদ আলম।

হাজী মাসুদ আলম নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড বেভতালা গ্রামের আতর আলী হাজীবাড়ির মফিজ মিয়ার ছেলে। তিনি এক ছেলের জনক।

নিহতের বড় ভাই হারুন উর রশিদ স্বপন কান্না জড়িত কণ্ঠে নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমকে জানান, চার ভাই দুই বোনের মধ্যে মাসুদ আলম ছিল তৃতীয়। ২০০৪ সালের অক্টোবর মাসে প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকার ভুলুমপোন্টিম শহরে যায় সে। গত কয়েক বছরে ওই শহরে বিভিন্ন পণ্যের ৩৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মালিক হয় সে।

হারুন উর রশিদ আরো জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে তার নিজ ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে যায় মাসুদ। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মায়ের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বলে ‘মা আঙ্গো কুরবানির গুরু কিনছেন নি? দাম কত অইছে? আর গরু জবাই করি আঙ্গো ব্যাক আত্মীয় স্বজনের বাইত গোসত পাঠাই দিয়েন। যেন ক্যা বাদ ন যায়..’ কথা শেষ না হতেই হঠাৎ করে কয়েকটি গুলির শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। এরপর অনেকবার হ্যালো হ্যালো করলেও মাসুদের কোনো কথা শুনতে পাওয়া যায়ন।

পরে দুপুরে আফ্রিকায় থাকা তার অপর দুই ভাই সোলেমান ও হোসেন তাকে মোবাইলে জানান সন্ত্রাসীরা মাসুদের মাথায় তিনটি গুলি করায় ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়েছে।

হারুন উর রশিদ আরো জানান, প্রতি বছর একবার মাসুদ বাংলাদেশে আসত। সর্বশেষ গত তিনমাস আগে সে বাড়ি থেকে আফ্রিকায় যায়।

এদিকে সন্তানকে হারিয়ে কান্না করতে করতে বার-বার মূর্চ্ছা যাচ্ছেন তার মা হাজী হাশমত নেছা। স্বামীকে হারিয়ে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার।

নিহতের মা, স্ত্রী, ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা মাসুদের মৃতদেহ দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা এবং ভবিষ্যতে যেন কোনো বাঙালি এভাবে সেদেশের সন্ত্রাসীদের হাতে জীবন না দিতে হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন