নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থাকলেও সোমবার পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। পাকিস্তানের পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক হলেও সালমা খাতুন জানিয়েছেন, এই সফর নিয়ে তাঁরা ‘নিরুদ্বেগ’। কারো হস্তক্ষেপে নয়, বরং ‘স্বেচ্ছা’য় পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন তাঁরা। রোববার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক এই কথা বলেন।
পাকিস্তান সফরে দুটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি খেলবেন নারী ক্রিকেটাররা। চারটি ম্যাচই হবে পাকিস্তানের অন্যতম ‘বিপদসঙ্কুল’ শহর করাচির সাউথ অ্যান্ড ক্লাব মাঠে। তবে এ নিয়ে তেমন উদ্বিগ্ন নন সালমা।
রোববার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়কের নির্ভীক মন্তব্য, ‘পাকিস্তানে যাওয়ার ব্যাপারে আমাদের ওপরে কোনো চাপ নেই। আমরা সেখানে স্বেচ্ছায় যাচ্ছি। গত বছর কোরিয়ার ইনচনে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসের পর আমরা কোনো ম্যাচ খেলিনি। তাই প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলতে আমরা উদগ্রীব।’
পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও তেমন উদ্বেগ নেই সালমার, ‘স্বাভাবিকভাবেই আমাদের বাবা-মা দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন। তবে আমরা কথা বলে, বুঝিয়ে-শুনিয়ে তাঁদের রাজি করিয়েছি। এই সফর মোটেও ঝুঁকিপূর্ণ নয়। কারণ শুধু পাকিস্তানে নয়, প্রায় প্রত্যেক দেশেই এমন ঘটনা ঘটে থাকে।’
২০০৯ সালের মার্চে লাহোরে শ্রীলঙ্কা দলের বাসে সন্ত্রাসী হামলার পর প্রায় ছয় বছর পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ‘ব্রাত্য’ ছিল। গত মে মাসে তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি খেলতে জিম্বাবুয়ে পাকিস্তান সফরে গিয়েছিল। তবে খুব শিগগির কোনো ‘বড়’ দলের পাকিস্তানে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
গত মাসে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দলকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল দেশটির ক্রিকেট বোর্ড পিসিবি। পাকিস্তানের নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে গত ৫ সেপ্টেম্বর বিসিবির একটি প্রতিনিধিদল দেশটি সফর করেছিল। নিরাপত্তার পূর্ণ আশ্বাস পাওয়ায় পাকিস্তানে নারী ক্রিকেটারদের পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। নারী ক্রিকেট দলের ম্যানেজার শফিকুল হক জানিয়েছেন, ‘আমাদের দলকে ভিভিআইপি নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সাধারণত কোনো দেশের রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীকে এমন নিরাপত্তাব্যবস্থা দেওয়া হয়ে থাকে।’
নারী ক্রিকেট দল : সালমা খাতুন (অধিনায়ক), জাহানারা আলম, ফারজানা হক পিংকি, রুমানা আহমেদ, লতা মণ্ডল, আয়েশা রহমান শুকতারা, পান্না ঘোষ, শারমিন আক্তার সুপ্তা, ফাহিমা খাতুন, শামীমা সুলতানা, রিতু মনি, নিগার সুলতানা, খাদিজাতুল কুবরা, শারমিন সুলতানা ও নাহিদা আক্তার।
স্ট্যান্ডবাই : সানজিদা ইসলাম ও সুমনা আক্তার।


