বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

চেহারা ভাল না হওয়ায় হিরো হতে পারিনি: রনি দা

Rajatav-Duttaরজতাভ দত্ত ওরফে রনি। এক যুগেই পরিণত হয়েছেন শক্তিমান একজন অভিনেতায়।

টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আজ বাংলা সিনেমায় ভিলেন বলুন কিংবা কমেডিয়ান বলুন, যে কোনো চরিত্রে যথেষ্ট সাবলীল অভিনয় করলেও ছোট থেকে কিন্তু অভিনয় নিয়ে ভাবেননি তিনি। গ্রাজুয়েশন করার পর প্রথম অভিনয়ে আসার কথা ভাবেন রজতাভ দত্ত। সেই সময়ে ‘অন্তরমুখ’ বলে একটি নাট্যদলের হয়ে প্রথম থিয়েটার করা শুরু করেন। সেই সময়েই আবার একটি চাকরিতেও যোগ দেন তিনি। কিন্তু ততদিনে অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা জন্মে গিয়েছে। ফলে, একটা সময় চাকরি ছেড়ে ফুল টাইমার অভিনেতা হয়ে যান।

অথচ মজার বিষয় হলো, তাঁকে যে বন্ধুরা জোর করে থিয়েটারে ঢুকিয়েছিল, আজ তারা কেউই আর থিয়েটারের সঙ্গে নেই। প্রত্যেকে চাকরি করছে। অথচ একমাত্র রজতাভ দত্তই থেকে গেলেন অভিনয়জগতে। প্রথমদিকে টিভিতে কয়েকটি কাজ করার পর ১৯৯৪ সালে তপন সিংহের ‘আজব গাঁয়ের আজব কথা’ ছবিতে প্রথম অভিনয় করেন। তারপর রাজা সেনের ‘চক্রব্যুহ’ ছবিতে অভিনয় করেন। দুটো ছবি সেই অর্থে হিট না হলেও এরপর ২০০০ সালে অপর্ণা সেনের ‘পারমিতার একদিন’ ছবিতে অভিনয় তাঁকে তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দেয়। তার পর থেকে রজতাভ দত্ত টালিগঞ্জে নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করে নেন। অভিনয়কে বরাবরই তিনি অভিনয় হিসেবে দেখতেই পছন্দ করেন।

নিজেই বলেন, ‘মঞ্চ কিংবা চলচ্চিত্র অভিনেতা অভিনেত্রীদের দেখে আমার জাদুকর বলে মনে হতো। তাই অভিনয়ের কৌশল শেখার খুব ইচ্ছে ছিল আমার মধ্যে। আসলে আমি তো সমাজ বদল করতে আসিনি। এসেছি অভিনয় করতে। আর সেটাই ভালোভাবে করে যেতে চাই।’

ছবিতে অভিনয় করার আগে রজতাভ দত্তের কাছে চরিত্র নির্বাচনের পাশাপাশি কোন প্রোডাকশন হাউসের ছবি সেটা যাচাই করাটাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। হাউসের ওপরেই ছবি তাড়াতাড়ি রিলিজের বিষয় নির্ভর করে বলেই বিশ্বাস করেন তিনি। রজতাভ দত্তের মতে, কমার্শিয়াল ছবিতে মূলত হিরো, হিরোইন, কমেডিয়ান এবং ভিলেন, এই চার চরিত্র দেখতে পাওয়া যায়। হিরোর মতো চেহারা না থাকায় অগত্যা তাঁকে ভিলেন কিংবা কমেডিয়ানের চরিত্রটাই করতে হয়। তবে আজ নামডাক খ্যাতির চূড়ায় উঠেও রজতাভ দত্ত অভিনয়টা শিখছেন বলেই দাবি করেন।

তিনি মনে করেন, অভিনয়ের রসদ আজও সংগ্রহ করেছেন তিনি। জনপ্রিয় হওয়ার আগে চলতে ফিরতে রাস্তাঘাটের দৈনন্দিন জীবন থেকে অভিনয়ের নানা রসদ সংগ্রহ করতেন। এখন আর আগের মতো খোলামেলাভাবে পথ চলতে পারেন না। কাচঢাকা গাড়িতে করে চলাফেরা করলেও আগের সেই রসদকেই কাজে লাগান তিনি। বিশেষ করে মীরাক্কেলে জাজিং করার সময় নতুন ছেলেমেয়েদের কাছেও তিনি অনেক কিছু শেখেন বলেই জানিয়েছেন।

রজতাভ দত্তের বিশ্বাস, রিয়েলিটি শো থেকে যেমন প্রচুর প্রতিভাবান ছেলেমেয়ে উঠে এসেছে, তেমনি অনেকে হারিয়েও গিয়েছে। মীরাক্কেল প্ল্যাটফর্ম থেকে সফল হওয়া ছেলেমেয়েদের মধ্যে বাংলাদেশের রনি, সজল, জামিল, শশীদের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ওরা এখন বাংলাদেশের বিভিন্ন টিভি শোতে অ্যাঙ্করিং করছে। অনেকের জীবন আমূল বদলে গিয়েছে। বাংলাদেশে আজ তারা সেলিব্রিটি। ফলে অভিনয়কে ভালোবেসে যে সাফল্য চাইবে, তার সাফল্য অনিবার্য বলেই বিশ্বাস তাঁর।

জীবনে চলার পথে কোনো ভুলকেই ভুল বলে মনে করেন না রজতাভ দত্ত। তাঁর মতে, জীবনের যে কোনো ভুলই হলো জীবনের পদক্ষেপ। একটা অভিজ্ঞতা। আর সেই অভিজ্ঞতাই প্রতিটি মানুষকে শিক্ষা দেয়। আজ দীর্ঘ পথচলায় শুধু টলিউডেই নয়, বলিউডেও পা রেখেছেন তিনি। ২০১৪ সালে শুট করা অনুরাগ বসুর ‘‌জাগগা জাসুস’ ছবিটি ২০১৬ সালে রিলিজ হতে পারে বলেও জানালেন তিনি। আজ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি তাঁর একমাত্র পছন্দের জায়গা।

নির্দ্বিধায় তাই হয়তো বলতে পারেন, প্রেমেই পড়েছিলেন এই ইন্ডাস্ট্রির। ফলে প্রেমিকা যেমন টেরা হলেও ভালো, তেমনি তাঁর চোখে এই ইন্ডাস্ট্রির ছোটখাটো ভুলত্রুটিতে দোষের কিছু নেই বলে মনে করেন তিনি। এই কারণেই ইন্ডাস্ট্রির কোনো খুঁত থাকলেও, সেটাকে খুঁত বলে মনে করেন না রজতাভ দত্ত।

আরও পড়ুন