বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

মৃতরা কোন দেশের তথ্য জানাচ্ছে না সৌদি আরব: বাংলাদেশী নিখোঁজ ৯৮

Hajj-kill

গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বেলা ১২টার দিকে মিনায় ‘শয়তানের স্তম্ভে’ পাথর ছুড়তে যাওয়ার পথে পদদলনে এ পর্যন্ত ৭৬৯ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে সৌদি আরব। তবে তিন দিন পরও তাদের মধ্যে কোন দেশের কতজন আছেন, সে তথ্য এখনও প্রকাশ করেনি দেশটি।

মিনায় পদদলনে নিহতদের মধ্যে কোনও বাংলাদেশি থাকার বিষয়ে কিছু না জানাতে পারলেও ৯৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাস। শনিবার দূতাবাসের হজ কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “নিহতদের শনাক্তের কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে আল নূর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৮২ জন নিহতের ছবিসহ একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। তবে সেখানে কোন বাংলাদেশিকে পাওয়া যায়নি।”

দূতাবাসে ফোন করে এ পর্যন্ত ১২৮ জনকে খুঁজে না পাওয়ার অভিযোগ দূতাবাসে এসেছে বলে জানান তিনি।

“তবে এর মধ্যে ৩০ জনকে আমরা খুজে পেয়েছি; তারা ভালো আছেন। ৯৮ জনের কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।” তাদের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান দূতাবাস কর্মকর্তা আসাদুজ্জমান।

আসাদুজ্জামান বলেন, “সেন্ট্রাল মর্গেও নিহত কয়েকজনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আমাদের লোক সেখানে আছে, আমরা তালিকা থেকে আমাদের দেশের কেউ আছেন কিনা তা খোঁজার চেষ্টা করছি। আজ মিনা ক্যাম্প ক্লোজ করা হয়েছে, এখন মক্কায় ফিরে যাচ্ছি। মক্কায় ফিরে হয়তো আরও কিছু তথ্য পাবো।”

ঘটনার পর তিন দিনে সৌদি আরব থেকে নয় বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পরিবারের কাছে এলেও নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি বাংলাদেশ বা সৌদি সরকার।

এদিকে আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত থেকে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা লাশ শনাক্তের কাজটি শুরু করেছেন।

পদদলনের ঘটনার পর উদ্ধার করা লাশগুলো বৃহস্পতিবার সারা রাত ধরে হাসপাতাল থেকে মিনার ‍মুয়াইজাম মর্গে স্থানান্তর করা হয়। এরপর মর্গে গোসল করিয়ে নেওয়া হয় লাশের ছবি ও আঙ্গুলের ছাপ।

নিহতদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জনের ছবি ইতোমধ্যে মর্গে টানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে স্বজন বা তার দেশের হজ কর্মকর্তারা তাদের শনাক্ত করতে পারেন।

হজযাত্রীরা বিমানবন্দরে নামার পর তাদের আঙুলের যে ছাপ ইমিগ্রেশন দপ্তর সংগ্রহ করেছিল, তার সঙ্গে লাশের আঙুলের ছাপও মিলিয়ে দেখা হবে বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়।

আরব নিউজের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি সরকার এখনও তথ্য না দিলেও বিভিন্ন দেশ নিহতদের মধ্যে তাদের নাগরিক থাকার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে।

এর মধ্যে ইরান ১৩১ জনকে তাদের নাগরিক বলেছে; মরক্কো তাদের ৮৭ নাগরিকের নিহত হওয়ার কথা বলেছে।

এছাড়া মিশর ৮, তুরস্ক ৪ এবং আলজেরিয়া, কেনিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার তিন জন করে নিহত হয়েছে বলে দেশগুলোর পক্ষ থেকে তথ্য দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন