বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

হজে মৃত্যুর আশা নিয়েই গিয়েছিলেন শহীদুল, হলোও তাই

হজ পালনে গিয়ে জামারাতে পদদলিত হয়ে মারা যাওয়া খুলনার ইমাম মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম মক্কায় দাফনের ইচ্ছা জানিয়ে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা। জামারাতে প্রতীকী শয়তানের প্রতি পাথর ছোড়ার সময় পদদলিত হয়ে মারা যাওয়া ৬৫০ জনের ছবি প্রকাশ করেছে সৌদি সরকার। তার ভিত্তিতে তিনজনকে বাংলাদেশি বলে শনাক্ত করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যাদের মধ্যে খুলনার মাওলানা শহিদুলের নামও রয়েছে।

খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা সানিয়াতুল বিদা জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন শহিদুল ইসলাম। তিনি সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার তৃতীয় ফেজের বাসিন্দা ছিলেন।

মৃত্যুর নিশ্চিত খবর পাওয়ার পর মাওলানা শহিদুলের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে তার।

নিহতের বড় ছেলে মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন সাংবাদিকদের বলেন, “বাবার ইচ্ছা ছিল একবারের জন্য হলেও হজ করবেন। সেই ইচ্ছা পূরণে এবার তিনি গিয়েছিলেন। যাওয়ার আগে তিনি বিদায় নেওয়ার সময় বলেছিলেন, হজ পালন করতে গিয়ে মৃত্যু হলে মক্কা নগরীতেই যেন তার দাফন হয়।

নিজে যে মসজিদের ইমাম সেই সোনাডাঙ্গা তৃতীয় ফেজের সানিয়াতুল বিদা জামে মসজিদে গায়েবানা জানাজার অনুরোধ শহিদুল ইসলাম রেখে গিয়েছিলেন বলে তার ছেলে জানান।

“প্রচণ্ড ধার্মিক ছিলেন তার বাবা। আমাদের ইসলামী বিধান অনুযায়ী চলার পরামর্শও দিয়ে গেছেন তিনি,” বলেন বেলাল।

ইমাম শহিদুল ইসলামের মৃত্যুতে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি শোক জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।

এদিকে শহিদুল ইসলামের মৃত্যুর কোনো খবর আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়ার খবর নিশ্চিত করতে পারেননি সোনাডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ূন কবীর।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তিনজনকে শনাক্তের খবর জানালেও তার মধ্যে থাকা সাভারের আমিনুর রহমানের ছেলে দাবি করেছেন, সৌদি আরবে খবর নিয়ে তারা জেনেছেন যে তার বাবার নামে অন্য একজনের লাশের ছবি রয়েছে।

আরও পড়ুন