স্পেনের স্বশাসিত অঞ্চল কাতালোনিয়ার আঞ্চলিক নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী জোট। আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা না হলেও ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে এগিয়ে রয়েছে তারা।
ফলাফলে ১৩৫ টি আসনের ৭২টিতে জয়লাভ করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী জোট। স্থানীয় সময় রোববার এ ফলাফল প্রকাশিত হলে জোট নেতা ও আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট আর্তাস মাস সমর্থকদের উদ্দেশ্যে জানান, আমরা জয় লাভ করেছি।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের খবরে আনন্দ র্যালি বের করে বিচ্ছিন্নতাবাদী জোটের সমর্থকরা। এ র্যালিতে অংশ নিয়ে জোট নেতা আর্তাস মাস সাংবাদিকদের জানান, একটি স্বাধীন কাতালোনিয়া প্রতিষ্ঠার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা।
জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে ১৮ মাসের মধ্যে স্পেন থেকে পৃথক হয়ে কাতালোনিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা করা হবে বলে জোটটির নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা ছিল।
এদিকে, কাতালোনিয়ার পৃথক হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘নির্বোধ সিদ্ধান্ত’ আখ্যা দিয়েছে কেন্দ্রীয় মাদ্রিদ সরকার।
বার্সেলোনা, জিরোনা, লেইডা ও তারাগোনা রাজ্য নিয়ে গঠিত স্পেনের স্বশাসিত অঞ্চল কাতালোনিয়া। স্পেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বার্সেলোনা এ অঞ্চলের রাজধানী।
অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী কাতালোনিয়া অঞ্চলের মধ্যে বার্সেলোনাসহ স্পেনের চারটি প্রদেশ রয়েছে। এখানকার মোট জনসংখ্যা ৭৫ লাখ।
জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিনমাস আগে কাতালোনিয়ার নির্বাচনে স্থানীয় স্বাধীনতাপন্থি দলগুলোর বিজয় স্পেনের প্রধানমন্ত্রী ম্যারিয়ানো রাজয়ের জন্য একটি বিপর্যয়। তার মধ্য-ডানপন্থি সরকার কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট গ্রহণের উদ্যোগের বিরোধিতা করছে।
কাতালান স্বাধীনতাপন্থিদের গণভোট গ্রহণের পরিকল্পনাকে ‘ননসেন্স’ আখ্যায়িত করে আদালতের দারস্থ হয়ে এটি বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন রাজয়।
স্পেনের সংবিধান অনুযায়ী দেশের কোনো অংশের বিচ্ছিন্ন হওয়ার অবকাশ নেই, তাই কাতালোনিয়ার ‘স্বাধীনতার’ বিষয়টি ধারণাগত বিষয় হয়েই থাকছে।
সরকারি ফলাফল অনুযায়ী, অঞ্চলটির প্রধান স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী ‘জান্তস পেল সি’ বা ‘হ্যাঁ-র জন্য ঐক্যবদ্ধ’ পেয়েছে পার্লামেন্টের ৬২টি আসন আর অপর স্বাধীনতাকামী দল বামপন্থি সিউপি পার্টি পেয়েছে ১০টি আসন।
নির্বাচনে রেকর্ড ৭৮ শতাংশ ভোট পড়ে। এরমধ্যে দলদুটি মিলিতভাবে ৪৭.৮ শতাংশ ভোট পেয়েছে। স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারণাকারীদের জন্য এটি বড় ধরনের সাফল্য।
ভোটের আগে দুটি দলই বলেছে, নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে তা পরবর্তী ১৮ মাসের মধ্যে একতরফাভাবে তাদের স্বাধীনতা ঘোষণার বিষয়টি অনুমোদন করবে। এই সময়ের মধ্যে কাতালান কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব সংবিধান এবং সেনাবাহিনী, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিচার ব্যবস্থার মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারবে।
বার্সেলোনা শহরের কেন্দ্রস্থলে জান্তস পেল সি-র সর্মথকদের উদ্দেশ্যে ম্যাস বলেছেন, ‘গণতান্ত্রিক এই ম্যান্ডেট’ নিয়ে এখন স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
সমর্থকরা এ সময় ‘ইন-ইনডে-ইনডেপেনডেন্সিয়া’ বলে স্লোগান দিচ্ছিল।
ইউরোপ ব্যুরে চিফ
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



