অন্তর্বাস সঠিক আকারের না হলে বড়ই অস্বস্তিকর। বিশেষ করে বক্ষবন্ধনী আরও বেশি স্পর্শকাতর। কারণ এটা সুগঠিত দেখানোর পাশাপাশি নিরাপত্তাও দেয়। তাই সামান্য সমস্যা থাকলেও পুরান বন্ধনীর বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে নতুন বন্ধনীতে নিজেকে বাঁধতে হবে।
নারী বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে সঠিক মাপের বক্ষবন্ধনী ব্যবহারের কিছু উপায় জানানো হয়। এ বিষয়ে পরামর্শ দেন অনলাইন ল্যানজারে স্টোর ক্লোভিয়া ডটকম’য়ের প্রতিষ্ঠাতা নেহা কান্ট।
o ব্রা বা অন্তর্বাস বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই নিজের সঠিক মাপ জেনে নিন। ভুল মাপের অন্তর্বাস পরিধানে সারাদিন অস্বস্থি অনুভূত হতে পারে। তাছাড়া বেখাপ্পা অন্তর্বাস দৈহিক গঠনও নষ্ট করে দেয়।
o ব্রায়ের মাপ সঠিক কিনা তা বোঝার জন্য ব্রা পরা অবস্থায় দুহাত সোজা করে মাথার উপরে তুলতে হবে। এতে যদি ব্রা উপরে উঠে আসে বুঝতে হবে মাপ ভুল আছে। যদি ব্রা ঠিক জায়গায় চেপে থাকে তাহলে বুঝতে হবে মাপ ঠিক আছে।
o সাদা বা হালকা রংয়ের পোশাকের নিচে সাদা রংয়ের ব্রা পরার ভুল করে থাকেন অনেকেই। এক্ষেত্রে সবসময় বাদামি, ঘিয়া বা শরীরের রংয়ের সঙ্গে মেলানো ব্রা বেছে নেওয়া উচিত। এতে কাপড়ের উপর দিয়ে ব্রা বোঝা যাওয়ার বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না।
o ভিন্ন ভিন্ন পোশাকের সঙ্গে ভিন্ন স্টেইলের ব্রা বেছে নিতে হয়। যেমন হাতা কাটা বা স্বচ্ছ পোশাকের সঙ্গে সব সময় ট্রান্সপারেন্ট বেল্টের ব্রা পরলে তা খুব একটা চোখের আড়াল হয় না। এসব ক্ষেত্রে স্ট্র্যাপলেস ব্রা বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
o তাছাড়া পিঠ খোলা বা পিঠের অংশে বেশি গভীর গলার পোশাকের সঙ্গেও ব্রা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সচেতন হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে ‘লো ব্যাক কনভার্টার’ বা ব্রায়ের পেছনের ফিতা নামানো থাকলে বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না।
o হাতা কাটা পোশাকে ব্রায়ের স্ট্র্যাপ বের হয়ে যাওয়ার সমস্যা এড়াতে পেপার ক্লিপ ব্যবহার করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ব্রার স্ট্র্যাপ দুটি পেছনের দিকে নিয়ে একটি পেপার ক্লিপ দিয়ে আটকে রাখতে হবে।
o এখন নানা ধরনের কনভার্টেবল স্ট্র্যাপ কিনতে পাওয়া যায়। স্ট্র্যাপলেস ব্রা পড়ে যাওয়ার সমস্যা এড়াতে ওই ধরনের কনভার্টেবল স্ট্র্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে।
o ব্রা যদি সামনের দিকে ঝুলে যায় তবে বুঝতে হবে অন্তর্বাসের নিচের ফিতা বা ‘আন্ডার-বাস্ট ব্যান্ড’য়ের মাপ ঠিক নাই। এক্ষেত্রে সঠিক মাপের ব্যান্ড বা ফিতার ব্রা ব্যবহার করুন।
o প্রতিদিনই একই ব্রা ব্যবহারে এর এলাস্টিসিটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই প্রতি সপ্তাহে অন্তত ৪টি ব্রা অদল বদল করে ব্যবহার করলে ব্রা দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
o যদি ব্রায়ের মাপে সমস্যা হয় তবে কাছাকাছি আকারের ব্রা পরে দেখা যেতে পারে। যেমন- ৩৬বি এবং ৩৪ সি’য়ের আকার প্রায় এক।
সঠিক মাপের বক্ষবন্ধনী ব্যবহারের কিছু উপায় জানানো হয়–
সমান্তরাল থাকা:
বক্ষবন্ধনীর ‘কাপ’ এর উপরের অংশ বুকের সমান্তরালে থাকতে হবে। শরীর আর ব্রা’য়ের মধ্যে কোনও ফাঁক থাকবে না। আবার বেশি চেপেও থাকবে না যাতে শরীরের কোনও অংশ হঠাৎ ফুলে থাকে। যদি এরকম হয় তবে অবশ্যই নতুন মাপের বক্ষবন্ধনী কেনার সময় হয়ে গিয়েছে।
পেছনের ফিতা সোজা থাকা:
বক্ষবন্ধনীর পেছনের ফিতা যদি সমান্তরাল না থাকে তাহলে বুঝতে হবে মাপ ঠিক নেই। অনেকসময়ই পেছনের ফিতা উপর দিকে উঠে আসে, এর মানে হচ্ছে অন্তর্বাস পুরান হয়ে গেছে বা নতুনটাই ঠিক মাপে হয়নি। পেছনের ফিতা অবশ্যই পিঠের দুই চাকতির নীচে সমান্তরালভাবে থাকবে।
‘স্ট্র্যাপ’ কাঁধ থেকে খসে পড়লে:
যদি বক্ষবন্ধনীর বয়স এক বছর হয়ে যায় তবে এই সমস্যা হতে পারে। তারমানে পরায় নয় অন্তর্বাসেই রয়েছে সমস্যা। স্ট্র্যাপ পেছনের ফিতা থেকে সামনের কাপের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রেখে আরামদায়ক অনুভূতি দেয়। আর বক্ষবন্ধনী সঠিক জায়গায় থাকতে সাহায্য করে। যেখানে সেখানে কাঁধ থেকে স্ট্র্যাপ খসে পড়াও অস্বস্তিকর। ঘাম ও শরীরের উত্তাপের কারণে সময়ের সঙ্গে ইলাস্টিকের কার্যকরিতা লোপ পেতে থাকে। যদি বেশ কয়েকদিন ধরে এই সমস্যা দেখা দেয় তাহলে নতুন কেনার পরিকল্পনা করুন এখনই।
হুক সমস্যা:
যদিও নানান কারণ থাকতে পারে, তবে চিকন ফিতার ক্ষেত্রেও অস্বস্তি হলে হয়ত বক্ষবন্ধনীর পেছনের ফিতার হুক এক বা দুই ঘর কমানোর চিন্তা করতে পারেন। তবে যদি মনে হয় কোনও একটা কিছু ঠিক নেই, যেমন: বাড়তি চাপ পড়ছে যেটা শরীরের আকারের জন্য নয় কিংবা দুটি কাপের যুক্ত হওয়ার জায়গায় বা যেখানে কাপ বা ব্যান্ডের সঙ্গে স্ট্র্যাপ যুক্ত হয়েছে বা ‘আন্ডার আর্ম’য়ে ব্যথা অনুভূত হলে বুঝতে হবে নতুন মাপের বক্ষবন্ধনী কেনার সময় হয়ে গেছে।
আকার ছোট বড়:
ব্রা, সঠিক আকারের পাশাপাশি সঠিক মাপেরও হতে হবে। তবে এটা শরীরের গঠনের উপর নির্ভর করে। অনেক মহিলারই একটির থেকে অন্য স্তন একটু ছোট বড় থাকে। প্রায়ই তাদের সঠিক মাপের বক্ষবন্ধনী পেতে সমস্যা হয়। এক্ষেত্রে ‘স্ট্রেচি কাপস’ বা টানলে বড় হয় আবার ছেড়ে দিলে আগের জায়গায় ফিরে আসে এরকম স্ট্রেচ-কাপড়ের অন্তর্বাস ব্যবহার করলে সমস্যা সমাধান সম্ভব।


