গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙন কবলিত মানুষেরা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, ভাঙ্গন ঠেকাতে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, এই মুহূর্তে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব নয়।
মাত্র কয়েকদিন আগে মা-বাবার সাজানো-গোছানো সংসারে পৃথিবীতে আসে একটি নবজাতক। শিশুটির বয়স যখন মাত্র ৮ দিন। তখন ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনের মুখে সব তছনছ। এখন মায়ের কোলে খোলা আকাশের নিচে সময় কাটছে তার। দফায় দফায় নদী ভাঙনের মুখে এই পরিবারটির মতোই দীর্ঘ হচ্ছে ভিটেমাটি হারা মানুষের তালিকা। ভাঙনের সাথে লড়াই করতে করতে মানুষগুলো এখন অসহায়।
ব্রহ্মপুত্র নদে পানি কমতে শুরু করায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। ফসলি জমি থেকে শুরু করে গাছপালা কোনো কিছুই রক্ষা পাচ্ছে না ব্রহ্মপুত্রের কবল থেকে। এ অবস্থায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল জানালেন, এই মুহূর্তে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব নয়।
কামারজানি গোঘাট গ্রামে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা ভাঙন কবলিত। গত ১৫ দিনে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনের মুখে বিলীন হয়েছে খানাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় আড়াইশ’ পরিবারের ভিটেমাটি। বাপ-দাদার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব মানুষগুলো আশ্রয় নিয়েছে খোলা আকাশের নীচে। শীঘ্রই ভাঙন ঠেকাতে পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ঐতিহ্যবাহী কামারজানী বন্দরও ভাঙনের মুখে পড়বে বলে আশংকা করছেন এলাকাবাসী।
সংবাদদাতা


