রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার কাসু গ্রামে জাপানের নাগরিক হোসি কনিও হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন- হোসি কনিও যে বাসায় থাকতেন, সেই বাসার মালিক গোলাম জাকারিয়া, তার ছেলে জাপানি নাগরিকের প্রকল্প সহকারী হুমায়ুন কবীর হীরা, রিকশাচালক মোন্নাফ ও মুরাদ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
শনিবার সকাল ১০টার দিকে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা হোসি কনি’কে গুলি করে। এর মধ্যে তিনটি গুলি লাগে তার শরীরে।
স্থানীয় একটি সূত্রের বরাত দিয়ে রংপুরের পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, জাপানি সাহায্যে পরিচালিত একটি কৃষি প্রকল্প উন্নয়নের কাজে পরিদর্শনে তিনি রংপুরে এসেছিলেন।
জেলা পুলিশের কন্ট্রোল রুম অপারেটর এমএ মাজেদ জানান, খবর পেয়ে কোতয়ালী, কাউনিয়া ও পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেছেন। লাশ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) জয়নাল আবেদীন বলেন, হোসি কনিও এক বছরের ভিসা নিয়ে রংপুর এসেছিলেন। চার মাস ধরে রংপুরের মাহিগঞ্জে অবস্থান করে একটি কৃষি প্রকল্পে কাজ করছিলেন। তবে এই জাপানি নাগরিকের অবস্থান সম্পর্কে পুলিশকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। এএসপি আরো বলেন, নিহত ব্যক্তির সঙ্গে থাকা পাসপোর্ট দেখে নিশ্চিত হওয়া গেছে তিনি জাপানি নাগরিক।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, গুলিতে হোসি কনিওর মৃত্যু হয়েছে। তার বুকে, পাজরে ও হাতে গুলি লেগেছে। তার হাতের রগ কেটে দেওয়া হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে।
এদিকে জাপানি নাগরিক নিহত হওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশের রংপুর রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হুমায়ুন কবীর, জেলা প্রশাসক (ডিসি) রাহাত আনোয়ার, পুলিশ সুপার (এসপি) আবদুর রাজ্জাকসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার গুলশানে চেসারে তাভেলা (৫০) নামের ইতালির এক নাগরিককে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তিনি গুলশানে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ছিলেন। তার হত্যা রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। ঠিক সেই মুহূর্তে রংপুরে একই ধরনের ঘটনা ঘটল।


