‘চ্যাম্পিয়নস অফ দি আর্থ’ ও ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার’ পেয়ে দেশে ফিরে আসা প্রধানমন্ত্রীকে গান আর ফুলে গণভবনে বরণ করেছেন লেখক-কবি, সামাজিক-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক কর্মীরা। শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে পথে পথে শুভেচ্ছা নিয়ে শনিবার ২টার পর প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর গণভবনে ঢোকে।
প্রধানমন্ত্রী গাড়ি থেকে নামার পর ফুল নিয়ে এগিয়ে যান লেখক সৈয়দ শামসুল হক।
এ সময় সেখানে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা গেয়ে উঠেন আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে গানটি থেকে ‘মহিমা তব উদ্ভাসিত……’ কলিটি। বন্যার সঙ্গে সেখানে উপস্থিত অন্যরাও কণ্ঠ মেলান। গান শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সবই জনগণের প্রাপ্য।”
এ সময় সেখানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চিত্রশিল্পী হাশেম খান, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হাবিব, এভারেস্টজয়ী মুসা ইব্রাহিম ও নিশাত মজুমদার, ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, বাংলাদেশের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান, ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, সংসদ সদস্য আব্দুস শহীদ, প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজও ছিলেন সেখানে।
প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহরের সঙ্গে গণভবনে ঢোকেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, আওয়ামী লীগ নেতা মাহাবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, অসীম কুমার উকিল প্রমুখ।
এরপর প্রধানমন্ত্রী গণভবনের মিটিং রুমে গিয়ে সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এসময় তিনি বলেন, “এটা জাতির সম্মান, মানুষের সম্মান।”
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ‘বিচক্ষণ নেতৃত্বের’ স্বীকৃতি হিসেবে জাতিসংঘের ‘চ্যাম্পিয়ন অফ দ্যা আর্থ’ এবং তথ্য-প্রযুক্তিতে অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থার (আইটিইউ) পুরস্কার এবার গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা।
জাতিসংঘের ‘চ্যাম্পিয়নস অফ দ্য আর্থ’ পুরস্কার পাওয়ায় বিমানবন্দর থেকে গণভবন পথে পথে গণসংবর্ধনায় সিক্ত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিজি ০০২নং ফ্লাইটটি শনিবার দুপুর ১টা ৫ মিনিটে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান। এ সময় সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।
হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে দুপুর দেড়টার দিকে গণভবনের পথে রওনা হয় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর। এ সময় রাস্তার দু’পাশে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মী ফুল ছিটিয়ে ও স্লোগান দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন। ‘বঙ্গকন্যার আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘শেখ হাসিনার আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন নেতাকর্মীরা।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, দলটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম একটি ছাদ খোলা জিপে নেতাকর্মীদের অভিবাদন গ্রহণ করতে করতে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহরের সামনে পথ চলতে দেখা যায়।
গণসংবর্ধনায় সিক্ত প্রধানমন্ত্রী শনিবার দুপুর ২টার দিকে গণভবনে পৌঁছান।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর গণসংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে শনিবার দুপুর ১২টা থেকে বিমানবন্দর এলাকার সড়কটির গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয় প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানাতে আসা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানাতে ঘোষিত ৯টি রুটে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকতে দেখা যায়।


