বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

উপকূলে নব্য দাস প্রথা, বিক্রি হচ্ছে শত শত জেলে

fishermen-34150বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় এলাকায় মাত্র এক থেকে পাঁচ হাজার টাকায় ছয় মাসের জন্য মহাজনদের কাছে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে শত শত জেলে। আর এ সময়ে জেলেদের অনেকটা জিম্মি কিংবা দাস হিসেবে ব্যবহার করছে দাদন ব্যবসায়ীরা।

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জেলেদের সাগরে ইলিশ মাছ ধরতে বাধ্য করছে তারা। এক্ষেত্রে দাদন ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ না করলে চালানো হচ্ছে অমানুষিক নির্যাতন।

আধুনিক এ যুগে কাগজে-কলমে দাস প্রথা নেই। কিন্তু বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সাধারণ জেলেদের সাথে যে আচরণ করা হচ্ছে তা দাস প্রথার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। বিশেষ করে বৃহত্তর চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, টেকনাফ এবং উখিয়া এলাকার জেলেরা এ দাস প্রথার সাথে জড়িয়ে পড়ছেন।

মাছ ধরার মৌসুমের শুরুতে নানা কৌশলে দাদন ব্যবসায়ীরা মাত্র ১ থেকে ৫ হাজার টাকায় কিনে নিচ্ছে অভাবী জেলেদের। পরবর্তীতে চক্র বৃদ্ধিহারে বাড়তে থাকে এ টাকার সুদ। সুদসহ টাকা দিতে না পারলেই চলে নির্যাতন।

বর্তমানে ইলিশের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে বঙ্গোপসাগরে সব ধরণের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। কিন্তু দাদন ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যের কারণে সরকারি কোনো উদ্যোগেই অংশীদার হতে পারছেন না জেলেরা।

এক্ষেত্রে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ায় আটক হচ্ছে সাধারণ জেলে। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে দাদন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না সরকার।

অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন অংশ থেকে অন্তত পাঁচশ জেলেকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। আর মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত।-সময় টিভি।

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম

আরও পড়ুন