জঙ্গিবাদ দমনে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে সরকারসহ সব মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তিনি এ কথা বলেন।
দুই বিদেশি হত্যাসহ সব ধরনের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ সারা পৃথিবীতে জঙ্গিবাদ একটা বড় সমস্যা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশে এ বিষয় নিয়ে একটি অপরাজনীতি করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘অনেকে বলছেন- এটার সঙ্গে আইএস জড়িত আছে, অনেকে বলছেন এটার সঙ্গে আইএস জড়িত নেই। একটি অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসের কথা তাঁরা বলছেন। আর এই গণতন্ত্রহীনতার সুযোগ উগ্রপন্থীরা গ্রহণ করতে পারে।’
জঙ্গিবাদের কথা বলে অপরাজনীতি করা হচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘বিদেশি নাগরিক হত্যাসহ গত কয়েক মাসে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি যে অবস্থায় দাঁড়িয়েছে তাতে জনগণের মনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করার জন্য চেষ্টা করতে হবে। তাদের সে জায়গায় আসতে হবে। যদি তারা সত্যিকার অর্থেই দেশকে ভালোবাসেন সেজন্য উদ্যোগ তো তাদেরই গ্রহণ করতে হবে। কারণ তারা চালিকাশক্তিতে রয়েছে।’
ফখরুল বলেন, ‘বারবার করে বলে আসছি, এখনো বলছি- একটা আলোচনার মধ্যে, একটা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে, একটা সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে এটাকে নির্মাণ করার চেষ্টা করতে হবে।’
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল দুর্নীতি এখন সর্বগ্রাসী রূপ নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সম্প্রতি দেশে ঘটে যাওয়া কিছু বিষয় নিয়ে আমরা গভীর উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে দুই বিদেশী নাগরিক হত্যার ঘটনায় আমরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন।’
তিনি বলেন, ‘জাতির এ সময়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে দেশকে রক্ষায় প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হল- জাতির এ অবস্থায় অপরাজনীতি করা হচ্ছে। ফলে জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠছে না। সে ঐক্যে দেশের রাজনীতিক, সুশীল সমাজ, শিক্ষক, পেশাজীবী সমাজ ও আমাদের আলেম-ওলামারা থাকবেন।’
ফখরুল বলেন, ‘এর আগেও আমাদের দেশে জঙ্গিবাদের সূচনা হয়েছিল। সে সময় আমাদের আলেম-ওলামারা মসজিদে মসজিদে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ভূমিকা রেখেছেন। তাদের সহযোগিতায় আমরা দেশ থেকে সফলভাবে জঙ্গিবাদ নির্মূলও করেছি। পরিতাপের বিষয় আজকে সরকারের একটি অংশের সঙ্গে আরেকটি অংশের কথার কোনো মিল নেই। একটি অংশ বলছে, দেশে আইএসের মতো ভয়ঙ্কর জঙ্গিগোষ্ঠীর অস্তিত্ব আছে। আরেকটি অংশ বলছে নেই। সব চেয়ে আশঙ্কার বিষয় দেশে গণতন্ত্রই নেই। গণতন্ত্রহীনতার সুযোগে দেশে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস মাথাচাড়া দিয়ে উঠে।’ সরকারের সংকীর্ণ দলীয় মানসিকতা থেকে জঙ্গিবাদের কথা বলা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ সাহসের সঙ্গে অতীতে সব সমস্যার সমাধান করেছে, এখনো করবে। সরকার যদি দেশ ও দেশের মানুষকে ভালবাসে, স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে তাহলে তারা জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবে। সরকার যেহেতু চালকের অবস্থায় রয়েছে সেহেতু জাতীয় ঐক্য গঠনে তাদেরই উদ্যোগ নিতে হবে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘গত নির্বাচন দেশ ও আন্তর্জাতিকভাবে কেউ গ্রহণ করেনি। আমরা বারবার বলছি, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আলোচনা প্রয়োজন। আলোচনার মাধ্যমে গণতন্ত্র বিকশিত হয়।’
সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। শুধু মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নয়, সব পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠছে। দুর্নীতি ও লুটপাট সব ব্যবস্থাপনাকে শেষ করে দিয়েছে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন— বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, দলের মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক শামীমুর রহমান ও আসাদুল করিম শাহীন, কৃষকদলের তকদির মো. জসিম প্রমুখ।


