বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

তাবিজ-কবচ ব্যবহার কি ইসলামে জায়েজ?

tabizনামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ মতিউল ইসলাম।

আপনার জিজ্ঞাসার ১৭৩৮তম পর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে তাবিজ-কবচ ব্যবহারের বিধান সম্পর্কে ই-মেইলে জানতে চেয়েছেন মো. সারোয়ার আলম।

প্রশ্ন : রোগমুক্তির জন্য যেকোনো প্রকার তাবিজ শরীরে পরা বা বাঁধা জায়েজ আছে কি?

উত্তর : এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয় উল্লেখ্য। তা হচ্ছে, যেকোনো ধরনের তাবিজ তো মোটেই নয়, বরং কোরআনের আয়াত লেখা তাবিজও ব্যবহার করা যাবে না। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তাবিজ ঝোলাল, সে ব্যক্তি কুফরি করল এবং শিরক করল।’

তাবিজ-কবচ যেগুলো লেখা হয়, যাতে কুফরি কালাম থাকে, সেগুলো তো কোনো মুমিন ব্যক্তি পরতে পারবে না। তবে কোরআনুল কারিমের আয়াত লেখা কোনো তাবিজ কেউ পরতে পারবে কি না, এ ব্যাপারে আলেমদের দুই মত। একটি হচ্ছে যে, এভাবে কোনো তাবিজ-কবচ ব্যবহার করা যাবে না। কারণ হিসেবে তাঁরা বলেছেন, এটা দ্বারা পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমার হাতে কোরআনের আয়াত লেখা তাবিজ থাকবে, আরেকজনের হাতে থাকবে কুফরি কালাম লেখা তাবিজ।

আরেকটি বিষয় হলো, কোরআনের আয়াত লেখা তাবিজ নিয়ে তো টয়লেটে যাওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কোরআনের সম্মানহানি হবে। এ জন্য বলা হয়েছে যে, কোরআন লিখেও তাবিজ করে হাতে বাঁধা জায়েজ নেই।

বরং কোরআন পড়ে কোনো পানির মধ্যে বা তেলের মধ্যে ফু দিয়ে দম করে সেটা ব্যবহার করা যেতে পারে। সুতরাং আপনি যেটা বলেছেন, এভাবে তাবিজ-কবচ পরা, এগুলো জায়েজ নেই, এমনকি কোরআনের আয়াত হলেও জায়েজ নেই। এটা থেকে যেন আমরা বিরত থাকতে পারি, আল্লাহতায়ালা আমাদের সে তৌফিক দান করুন।

আরও পড়ুন