ঢাকায় ইতালীয় ও রংপুরে জাপানি নাগরিক হত্যার পর থেকেই কূটনৈতিক পাড়ায় এই বিশেষ তৎপরতা শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। বাংলাদেশে অবস্থানকারী পশ্চিমা নাগরিকদের ওপর আবারও সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে বলে যুক্তরাজ্য সরকারের আশঙ্কায় কূটনৈতিক পাড়ায় শুরু হয়েছে বিজিবির টহল। কূটনৈতিক পাড়ায় রাতভর তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। রাতের তল্লাশিতে দিনের চেয়ে বেশি সতর্কতা লক্ষ্য করা গেছে। এর আগে শনিবার বিকেলে গুলশানের পুলিশ প্লাজা থেকে গুলশান-বারিধারায় নিরাপত্তা মহড়া চালায় পুলিশ।
শনিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর গুলশান, বনানী ও বারিধারায় রাতভর চলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ টহল ও তল্লাশি।
বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ি, কবরস্থান সড়ক, বনানী ব্রিজ, মহাখালীর ব্রাক ইন সেন্টার ব্রিজ, গুলশান স্যুটিং ক্লাব, নতুন বাজার, বারিধারা লেক পাড় ও কাকলীতে চেকপোস্ট বসিয়ে সারারাত তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। সেই সাথে বারিধারার দূতাবাস এলাকায় সন্ধ্যা থেকে সারারাত টহল দিতে দেখা গেছে র্যাব ও বিজিবিকে।
বারিধারা লেকপাড় চেকপোস্টে তল্লাশিতে অংশ নেওয়া গুলশান থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হাফিজুল ইসলাম জানান সন্ধ্যা ৮টা থেকে তল্লাশি শুরু হয়ে চলে সকাল ৮টা পর্যন্ত।
এর আগে যুক্তরাজ্য নতুন করে সতর্কতা জারির পর শনিবার বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তায় রাজধানীর গুলশান ও বারিধারায় পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি সদরদপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মহসিন রেজা শনিবার রাতে বলেছেন, “বিদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বারিধারা ও গুলশানে বিজিবি সদস্যরাও টহল দেবে।”
এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা ও রংপুরে দুই বিদেশি খুন হওয়ার পর সারা দেশেই বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তায় বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রায় দুই লাখ ২৪ হাজার বিদেশি নাগরিকের নিরাপত্তায় ‘বিশেষ ব্যবস্থা’ নেওয়ার কথা জানিয়ে মঙ্গলবার কূটনীতিকদের্ আশ্বস্ত করে সরকার।
এর তিন দিনের মাথায় শুক্রবার যুক্তরাজ্যের হালনাগাদ করা ভ্রমণ বিষয়ক সতর্কবার্তায় বাংলাদেশে বিদেশিদের উপর ‘নির্বিচারে হামলার’ শঙ্কা প্রকাশ করে ব্রিটিশ নাগরিকদের চলাফেরায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরদিন ঢাকার কূটনীতিকপাড়ায় বিজিবি মোতায়েন করল সরকার।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর গুলশানের কূটনীতিক পাড়ায় চেজারে তাভেল্লা নামের এক ইতালীয় এনজিওকর্মী দুর্বৃত্তের গুলিতে খুন হওয়ার পাঁচ দিনের মাথায় রংপুরের এক গ্রামে একই কায়দায় খুন হন জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি।
দুটি ঘটনার পরই আইএস হত্যার দায় স্বীকার করে বলে খবর দেয় জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ’। এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে বাংলাদেশে জঙ্গি উত্থানের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
তবে সরকার বলে আসছে,দুই খুনের সঙ্গে আইএস-এর সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ মেলেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেছেন, আইএস বা তেমন কোনো জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা বাংলাদেশে নেই।
দুই বিদেশি খুন হওয়ার পর বিদেশিদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়। গুলশান-বারিধারায় কূটনীতিকপাড়ায় পুলিশি টহলের পাশাপাশি ওই সব এলাকার প্রবেশমুখগুলোতে তল্লাশি জোরদার করা হয়।
সারা দেশে বিদেশিদের নিরাপত্তার দিকে নজর দিতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সব জেলার পুলিশ সুপার ও থানার ওসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়।


