বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

শত কোটি টাকা আত্মসাৎ: হাসিনা দৌলাকে দুদকে তলব

]বিভিন্ন প্রকল্পের ভুয়া বিল দেখিয়ে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাসিনা দৌলাকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা দৌলা গত পাঁচ বছর ধরে ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন।

তার মেয়াদের মধ্যে ২০১১-১২, ২০১২-১৩, এবং ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে এই দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

হাসিনা দৌলাকে নোটিস পাঠানো হয়েছে জানিয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগামী ২১ অক্টোবর সকালে তাকে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।”

ধামরাই, নবাবগঞ্জ উপজেলায় বায়স্তবায়নাধীন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কয়েকটি প্রকল্পে এই দুর্নীতির সন্ধান মিলেছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এতক দুদক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

হাসিনা দৌলা দুদকের কাছে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১২-১৩ সালে ধামরাইয়ে একটি উন্নয়ন প্রকল্প থেকে হাসিনা দৌলার কথিত পিএস মাহবুবুর রহমান (মনি) বিভিন্ন সময়ে মোট ১ হাজার ৫০টি চেকের মাধ্যমে ৯ কোটি ৭৬ লাখ ৩৮ হাজার টাকা তুলেছেন। কোনো অনুমোদন ছাড়াই এই অর্থ তোলা হয়।

একই বছর নবাবগঞ্জে যন্ত্রাইল কবরস্থানের উন্নয়নে একটি প্রকল্পের কাজ না এগোলেও কাজের ৭৯ শতাংশ টাকা পরিশোধ করা করা হয় জেলা পরিষদের দপ্তর থেকে, যাতে দুর্নীতির আভাস পেয়েছে দুদক।

নবাবগঞ্জ অফিসার্স ক্লাব সংস্কার এবং নবাবগঞ্জ মার্কেট আধুনিকায়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রেও কাজ শেষ হওয়ার আগে বিল পরিশোধের অভিযোগ পেয়েছে দুদক।

সব মিলিয়ে প্রায় একশ কোটি টাকা দুর্নীতির খোঁজ পাওয়া গেছে জানিয়ে দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, “সবগুলো প্রকল্প এবং তার আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব এই মুহূর্তে দুদকের কাছে নেই। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বরাবরও চিঠি দেওয়া হয়েছে।”

এই বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়েরও একটি প্রতিবেদন রয়েছে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দুদক কর্মকর্তা।

“আমরা জেনেছি, এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রায় ৫০০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন আছে। সেখানে গত তিন বছরে ঢাকা জেলায় গৃহীত যাবতীয় প্রকল্পের ডিটেইল বর্ণনা আছে। অনুসন্ধানের স্বার্থে ওই প্রতিবেদনের একটি কপি চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন