বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

পেট্রল-সিএনজি পাম্পের জন্য সড়কের জমি নয়

cabinet-landসড়ক ও জনপথ অধিদফতরের (সওজ) জমিতে নতুন করে কোনো পেট্রোল বা ডিজেল পাম্প বা সিএনজি স্টেশন স্থাপনের অনুমতি না দেওয়ার বিধান রেখে একটি নীতিমালা অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সচিবালয়ে সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০১৫’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

গত ৮ জুন বৈঠকে নীতিমালাটি উপস্থাপন করা হলেও মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেয়নি জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘কিছু পর্যবেক্ষণসহ নীতিমালাটি (সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে) ফেরত পাঠানো হয়। এ সংক্রান্ত বিচ্ছিন্ন নীতিমালাগুলো আপটেড ও সমন্বিত করে এ নীতিমালাটি প্রণয়ন করা হয়েছে।’

সাময়িকভাবে অব্যবহৃত জমি অস্থায়ী লিজ দেওয়ার মাধ্যমে সওজের মালিকানা অব্যাহত রাখা, জমি অবৈধ দখলমুক্ত রাখা, ভালো ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য নীতিমালাটি করা হয়েছে বলে জানান মোশাররাফ হোসাইন।

নীতিমালায় নয়টি অধ্যায়ে ২৪টি অনুচ্ছেদ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের যে ভূ-সম্পত্তি রয়েছে এগুলোর তথ্য ডিজিটাল ও ম্যানুয়ালি সংরক্ষণ করার কথা বলা হয়েছে এতে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘সওজের কিছু কিছু অব্যবহৃত জমিতে পেট্রোল পাম্প, সিএনজি স্টেশন আছে। যেগুলো আছে, থাকবে। তবে নীতিমালা অনুযায়ী নতুন করে কোনো পেট্রোল পাম্প বা ডিজেল পাম্প বা সিএনজি স্টেশন স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে সওজের জমির পাশে কোনো ব্যক্তিগত জায়গায় পাম্প বা স্টেশন থাকে সেক্ষেত্রে করিডোর দেওয়া যাবে। সড়ক দ্বীপে দেশের ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক ঘটনার ধারক-বাহক ভাস্কর্য বা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের অনুমতি দেওয়া যাবে’ বলেন মোশাররাফ হোসাইন।

তিনি বলেন, ‘অনুমতি না নিয়ে এগুলো করা যাবে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেবে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে নীতিমালায় সওজের প্রধান প্রকৌশলীকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।’

যে সব সরকারি দফতর ইউটিলিটি সার্ভিস দেয় তাদের অব্যবহৃত ভূমি সাময়িকভাবে ব্যবহারের সুযোগ থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তবে পদ্ধতি নীতিমালায় বলা হয়েছে।’

যাত্রীদের সুবিধার্ধে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের অনুমতি দেওয়া যাবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘ইজারা দেওয়ার জন্য দুই ধরনের ফি ধার্য করা হয়েছে নীতিমালায়। একটি এককালীন আরেকটি ফি বার্ষিক। কোন ধরনের লিজের জন্য ফি কত তা-ও বলা হয়েছে। মৌজার জমির মূল্য ভিত্তি করে ফি নির্ধারণ করা হবে। জমির মূল্যকে ভিত্তি ধরে ক্ষেত্রভেদে ৫০ পারসেন্ট, কোনো ক্ষেত্রে ২৫ পারসেন্ট, কোনো ক্ষেত্রে ফি হবে ৩০ পারসেন্ট।’

‘নন ট্যাক্স রেভিনিউ বৃদ্ধির স্বার্থে বিলবোর্ড, ডিজিটাল টিভি ইত্যাদির অনুমোদন দেওয়া যাবে। সেটাও যথা নিয়মে অনুমতি নিতে হবে ও ফি দিতে হবে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, ‘পরিবেশ ও উৎপাদনের স্বার্থে মৎস্য চাষ, কৃষি কাজ, সামাজিক বনায়ন এ সব কাজেও জমি ইজারা দেওয়া যাবে। যাত্রা বিরতির জন্য বিশ্রামাগার, ট্রাক টার্মিনাল স্থাপনের জন্য জমি ইজারা দেওয়া যাবে।’

কেউ ইজারার শর্ত ভঙ্গ করলে নীতিমালায় তা প্রতিকারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলেও জানান মোশাররাফ হোসাইন।

মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হার ৫৭ শতাংশ: মন্ত্রিসভা বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে ২০১৫ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রতিবেদন মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়েছে। এ সময়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৫৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। গত বছর এ সময়ে বাস্তবায়ন হার ছিল ৬০ শতাংশ।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘চলতি বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিসভা বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে ৭৮টি বাস্তবায়িত হয়েছে ৪৫টি। গত বছর একই সময়ে সিদ্ধান্ত ছিল ৫৫টি, বাস্তবায়িত হয়েছে ৩৩টি। অপর দিকে চলতি বছর জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে ২১২টি, বাস্তবায়িত হয়েছে ১৪০টি। গত বছর একই সময়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে ১৫১টি, বাস্তবায়িত হয়েছে ৯২টি’ বলেন তিনি।

সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতিতে মন্ত্রিসভা সন্তোষ প্রকাশ করেছে জানিয়ে মোশাররাফ হোসাইন বলেন, ‘মন্ত্রিসভা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো বৈঠকের চারদিন আগে সার-সংক্ষেপ পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছে। এছাড়া নীতিগত অনুমোদনের পর প্রক্রিয়াধীন আইনগুলো ভেটিং সম্পন্ন করে দ্রুত চূড়ান্ত করার জন্যও বলেছে।’

আরও পড়ুন