বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সারাদেশে আর্থিক কষ্টে হাজারো শিক্ষক

teacherপিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলার ফজিলা রহমান মহিলা কলেজে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে ইয়াসমিন রেজা নির্মলা প্রভাষক পদে যোগ দেন ২০১১ সালের ডিসেম্বরে। এমপিওভুক্ত সৃষ্ট পদে তিনি এ নিয়োগ পান। নিয়োগের সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শর্ত দেওয়া হয়েছিল, চাকরি পাওয়ার পর দুই বছর পর্যন্ত তার বেতন-ভাতা সংশ্লিষ্ট কলেজকেই বহন করতে হবে। দুই বছর পার হলেও তিনি এমপিওভুক্ত হতে পারেননি। দুই বছর ধরে এমপিওভুক্তির জন্য তিনি হন্যে হয়ে ঘুরছেন। ইয়াসমিন রেজা নির্মলার মতোই সারাদেশের ছয় শতাধিক শিক্ষক সৃষ্ট পদে চাকরি পেয়েও এমপিওভুক্ত হতে পারেননি। এমপিওভুক্ত পদে চাকরি পেয়েও এমপিওভুক্ত হতে না পেরে আর্থিক কষ্ট ও মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন তারা। প্রতিদিন রাজধানীর শিক্ষা ভবনে ধরনা দেন অনেকে। এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও তাদের বেতন দেয় না, সরকারও দেয় না। তাদের কেউ কেউ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির কাছে শত অনুনয়-বিনয় করে নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে নামমাত্র বেতন পাচ্ছেন।

‘এমপিওভুক্ত পদে নিয়োগ পেয়েও কেন এই শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত হতে পারছেন না’ জানতে চাইলে মাউশির উপপরিচালক (কলেজ-২) মেজবাহউদ্দীন সরকার বলেন, সরকার নতুন এমপিওভুক্তি বন্ধ রেখেছে। ২০১১ সালের ১৩ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক পরিপত্রে বলা হয়, ওই তারিখের পরে কোনো বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা) নতুন শ্রেণী, শাখা ও বিষয় (সাবজেক্ট) খোলা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকেই শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বহন করতে হবে। সে কারণে নতুন শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করা হচ্ছে না। এই উপপরিচালক জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার কারণেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সাধারণ শিক্ষকরা জানান, তারা সৃষ্ট পদে নিয়োগ পেয়েছেন। নিয়োগের আগে তারা এমপিওভুক্ত পদ দেখেই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে চাকরিতে এসেছেন। নিয়োগের সময় তাদের সরকার তরফে শর্ত দেওয়া হয়েছিল, দুই বছর তারা প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে বেতন পাবেন। এমপিওভুক্ত হওয়ার আশায় দুই বছরের জায়গায় তারা চার বছর ধরে অপেক্ষা করছেন। এখন বলা হচ্ছে, তারা এমপিওভুক্ত হতে পারবেন না। এটি চরম বঞ্চনা।

বঞ্চিত শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল গত মাসে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে দেখা করে। তারা শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি পুনরায় চালু করার জন্য মন্ত্রীর প্রতি আবেদন করলেও মাসখানেক এ বিষয়ে আর কোনো অগ্রগতি না দেখে শিক্ষকরা হতাশ।

মাউশির পরিচালক পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, এই শিক্ষকদের পাশাপাশি ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ নামে নতুন বিষয় আবশ্যিক করা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ওই সব বিষয়ের একজন করে শিক্ষক এমপিওভুক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু জনবল কাঠামো সংশোধন না করায় তাদেরও এমপিওভুক্তি দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষকদের বেতন বহন করতে হচ্ছে। এতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিলের ওপর চাপ বাড়ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) অরুণা বিশ্বাস বলেন, দুই বছরের স্ব-অর্থায়নে ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলে অবশ্যই সৃষ্ট পদে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি চালু করা হবে।

মাউশি জানায়, তারা এই শিক্ষকদের মধ্য থেকে কলেজে নিয়োগ পাওয়া ৯৭ শিক্ষকের বেতন-ভাতা চেয়ে এ পর্যন্ত তিন দফায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। প্রথম দফায় ৭৭ শিক্ষকের জন্য ১ কোটি ২৮ লাখ ৬৫ হাজার ১৬০ টাকা ও দ্বিতীয় দফায় আরও ১৪ শিক্ষকের জন্য ২৩ লাখ ৩৯ হাজার ১২০ টাকা এবং তৃতীয় দফায় ৬ শিক্ষকের জন্য ৯ লাখ ৯১ হাজার ৪৮০ টাকা বেতন-ভাতা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়। তবে মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

আরও পড়ুন