বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

৫ ‘রাজাকারের’ বিচার শুরু: চার জনই পলাতক

ict_newsworldbdএকাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় কিশোরগঞ্জের পাঁচ ‘রাজাকারের’ বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। সোমবার বিচারপতি এম আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগ আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠন করেন। এর মধ্য দিয়ে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এই পাঁচজনের বিচার শুরু হলো।

সোমবার অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল আগামী ৪ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন।

মামলার আসামিরা হলেন— কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের দুই সহোদর সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত ক্যাপ্টেন মো. নাসিরউদ্দিন আহমেদ ও কিশোরগঞ্জ জেলা বারের আইনজীবী মো. শামসুদ্দিন আহমেদ এবং কিশোরগঞ্জের রাজাকার কমান্ডার গাজী আব্দুল মান্নান, হাফিজ উদ্দিন ও আজহারুল ইসলাম। প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন জানান, আসামিদের মধ্যে গ্রেপ্তার শামসুদ্দিন আহমেদ অভিযোগ গঠনের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকিরা শুরু থেকেই পলাতক।

সোমবার ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন আইনজীবী জিয়াদ আল মালুম। অন্যদিকে শামসুদ্দিন এবং পলাতক চার আসামির পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আব্দুস শুকুর খান।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ১৩ এপ্রিল এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এরপর ১৫ এপ্রিল পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিলের পর গত ১০ মে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

এরপর গত ১৩ মে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কিশোরগঞ্জের এই পাঁচ ‘রাজাকারের’ বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। পরে গত ২২ সেপ্টেম্বর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে প্রসিকিউশন শুনানি করে।

এই পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলেও এখন পর্যন্ত আসামি শামসুদ্দিনকে ছাড়া অন্যদের গ্রেফতার করা যায়নি।

ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, আটক, লুণ্ঠন, নির্যাতনসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।

মুক্তিযুদ্ধকালে এই পাঁচজন কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানার বিদ্যানগর, আয়লা, ফতেরগুপ বিল, পীরাতন বিল ও আশেপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের পক্ষে অভিযোগ গঠনের শুনানিতে ছিলেন জেয়াদ আল-মালুম, সুলতান মাহমুদ সীমন ও রেজিয়া সুলতানা চমন।

অন্যদিকে আসামি শামসুদ্দিনের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আবদুস শুকুর খান।

গত ১০ মে এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এরপর ১৩ মে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।

সাত অভিযোগ:

অভিযোগ ১: ১৯৭১ সালের ১২ নভেম্বর দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানার বিদ্যানগর ও আয়লা গ্রামের মোট আট জনকে হত্যা ও একজনকে আহত করা।

অভিযোগ ২: ১৩ নভেম্বর আয়লা গ্রামের মিয়া হোসেনকে হত্যা।

অভিযোগ ৩: একই উপজেলার মো. আব্দুল গফুরকে অপহরণ করে ২৬ সেপ্টেম্বর খুদির জঙ্গল ব্রিজে নিয়ে হত্যা।

অভিযোগ ৪: ২৩ অগাস্ট করিমগঞ্জ উপজেলা ডাকবাংলোতে শান্তি কমিটির কার্যালয়ে আতকাপাড়া গ্রামে মো. ফজলুর রহমান মাস্টারকে অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যা।

অভিযোগ ৫: ৭ সেপ্টেম্বর রামনগর গ্রামের পরেশ চন্দ্র সরকারকে হত্যা।

অভিযোগ ৬: ২৫ অগাস্ট পূর্ব নবাইদ কালিপুর গ্রামে আবু বক্কর সিদ্দিক ও রূপালীকে অপহরণ করে নির্যাতন ও হত্যা।

অভিযোগ ৭: ১৫ সেপ্টেম্বর আতকাপাড়া গ্রামে আক্রমণ করে ২০-২৫টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ।

আরও পড়ুন