হত্যাকাণ্ডের ১৬ দিন পর ইতালির নাগরিক সিজারি তাভেল্লার লাশ আজ ইতালিতে পাঠানো হচ্ছে। সকাল ৯টায় লাশ ইতালি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের বুঝিয়ে দেয়া হবে। এরপর যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাভেল্লার লাশ নিজ দেশে পাঠানো হবে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গের ফ্রিজে রাখা আছে।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোজাম্মেল হক জানান, ইতালীয় দূতাবাসের কর্মকর্তারা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তারা বলেছেন, বুধবার সকাল ৯টার দিকে লাশ বুঝে নেয়ার জন্য হাসপাতালে আসবেন। তাদের লাশ বুঝিয়ে দেয়া হবে। এরপর যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাভেল্লার লাশ নিজ দেশে পাঠানো হবে। এর আগে মামলার তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে তাভেল্লার লাশ হস্তান্তরের যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
মামলার তদারকি কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার শেখ নাজমুল আলম জানান, ইতালি নাগরিকের লাশ তার দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য যেসব প্রক্রিয়া আছে তা আগেই সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতালি দূতাবাসের মাধ্যমে সিজারি তাভেল্লার লাশ তার দেশে পাঠানো হবে।
২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় গুলশান ৯০ নম্বর সড়কের পশ্চিম প্রান্তে গুলশান এভিনিউসংলগ্ন গভর্নর হাউসের দক্ষিণের দেয়াল ঘেঁষা ফুটপাতে দুর্বৃত্তরা সিজারি তাভেল্লাকে গুলি করে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তাভেল্লা নেদারল্যান্ডসভিত্তিক এনজিও আইসিসিও কর্পোরেশনের প্রকল্প পরিচালক ছিলেন। ওই প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশ প্রতিনিধি হেলেন দার বিক বাদী হয়ে গুলশান থানায় ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। এজহারে বলা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে তাভেল্লাকে হত্যা করা হয়েছে। তাভেল্লা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ সদর দফতর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলামকে প্রধান করে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে।
ওই কমিটিকে সহায়তার জন্য গঠন করা হয় আরও ১১ সদস্যের একটি তদন্ত দল। ইতিমধ্যেই গুলশান থানার ওই মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি)। তবে ডিবি পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন সংস্থা চাঞ্চল্যকর এ মামলার ছায়া তদন্ত করছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম


